Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আকামা রিনিউ না করলে কফিল পরিবর্তন করা যাবে সৌদিতে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯

আকামা রিনিউ না করলে কফিল পরিবর্তন করা যাবে সৌদিতে

এখন থেকে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মূল নিয়োগকর্তা বা কফিল আকামা নবায়ন না করলে আইনগত কোনো বাধা ছাড়াই দ্রুত অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়নের সুযোগ থাকবে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এ সুখবর দিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন ধরে কফিল নির্ভরতার কারণে অনেক শ্রমিক বিপাকে পড়তেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অফিস কক্ষে সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি এবং ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ ঘোষণা আসে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত তিনটি চুক্তির মধ্যে ডোমেস্টিক কর্মী ও এসভিপি চুক্তি নবায়নের অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে যৌথ টেকনিক্যাল কমিশনের সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে প্রশিক্ষণ, কল্যাণ ও কর্মী নিয়োগের বিষয়গুলো আরো কার্যকরভাবে আলোচিত হতে পারে।

বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ, সৌদি আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য যৌথ উদ্যোগে একটি সৌদি-বাংলাদেশ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী নিয়োগ সহজতর করতে পারস্পরিক যোগ্যতার স্বীকৃতি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট ও আকামা ইস্যু নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। অনেক নিয়োগকর্তা ফি বৃদ্ধির অজুহাতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়, যা সমাধানে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে আসন্ন রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সৌদি আরবের সফর জেলে আটক বাংলাদেশি কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশি কর্মীরা সৌদি আরবের উন্নয়নে যেমন অবদান রাখছে, তেমনি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষায় দক্ষতার কথা উল্লেখ করে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সৌদি আরবে বর্ধিত কর্মী চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ শ্রমিক গ্রহণের আহ্বান জানান। নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি জোর দেন। সচিব মো. মোখতার আহমেদ সফর জেলে আটক কর্মীদের মুক্তির জন্য সাধারণ ক্ষমার অনুরোধ করেন।

সৌদি ডেপুটি মিনিস্টার মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটি খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম ও ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করা হয়েছে। সফর জেলে আটক কর্মীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে ক্ষমার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

Logo