ইতালি নতুন অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছে, যার আওতায় ২০২৮ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে মোট পাঁচ লাখ কর্মভিসা ইস্যু করা হবে। দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি মোকাবিলা এবং শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর জন্য এই নীতি কার্যকর করা হয়েছে। DAAD Scholarship এর নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ আর্টিকেল।
ইতালির অর্থনীতি বর্তমানে কৃষি, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং প্রযুক্তি খাতে শ্রমিক সংকটে ভুগছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় স্থানীয় শ্রমশক্তি কমে গেছে। নতুন কর্মভিসা নীতি সেই ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে। সরকার আশা করছে, বিদেশি শ্রমিকরা এসব খাতে কাজ করে অর্থনীতিকে সচল রাখবে।
নতুন নীতির আওতায় প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মভিসা দেওয়া হবে। মৌসুমি কাজের জন্য আলাদা কোটা রাখা হয়েছে। প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ কর্মীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভিসার মেয়াদ কয়েক বছর হবে এবং দক্ষতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে নবায়ন করা যাবে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ইউরোপে যান। ইতালির এই নতুন নীতি তাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। বৈধ কর্মভিসার মাধ্যমে অভিবাসন হলে অবৈধ পথে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে। তবে দক্ষতা যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি হয়ে পড়বে।
যদিও নতুন নীতি অভিবাসীদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে, কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইতালীয় ভাষা শেখা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি। ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রতারণার ঝুঁকি থাকায় সতর্ক থাকতে হবে। দক্ষতা যাচাই ও আইনি শর্ত পূরণ না করলে ভিসা পাওয়া কঠিন হবে।
ইতালির নতুন কর্মভিসা নীতি ইউরোপে অভিবাসন ও শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন আনবে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত পাঁচ লাখ কর্মভিসা ইস্যু করার সিদ্ধান্ত দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এটি নতুন সুযোগ হলেও দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শেখা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
logo-1-1740906910.png)