Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৪ লাখ গ্রিন কার্ড কম দেওয়া হবে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৪ লাখ গ্রিন কার্ড কম দেওয়া হবে

যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক বছরে গ্রিন কার্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করেছে। নতুন নীতির আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ গ্রিন কার্ড কম দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত অভিবাসন প্রক্রিয়া, চাকরি এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া এ সংবাদ প্রকাশ করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে ধাপে ধাপে গ্রিন কার্ড ইস্যুর সংখ্যা কমানো হবে। স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া আরো প্রতিযোগিতামূলক হবে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।  

গ্রিন কার্ড কমানো মানে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ কমে যাওয়া। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা থাকলেও তাদের স্থায়ী হওয়ার সুযোগ সীমিত হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের ওপর নির্ভর করেন। নতুন নীতি তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে। যারা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং বিকল্প দেশ বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।  

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবায়। গ্রিন কার্ড কমানো হলে এসব খাতে কর্মী সংকট আরো বাড়তে পারে। তবে সরকার বলছে, তারা স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে চায়। এর ফলে বিদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ সীমিত হলেও স্থানীয়দের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।  

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে যান। গ্রিন কার্ড কমে গেলে তাদের স্থায়ী হওয়ার সুযোগ সীমিত হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে চাকরি পাওয়া কঠিন হবে এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ কমে যাবে। প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদি রেমিট্যান্স প্রবাহও কমতে পারে। 

অভিবাসন প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘ ও জটিল হবে। প্রতারণার ঝুঁকি বাড়বে, কারণ অনেকেই অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। দক্ষতা যাচাই ও আইনি শর্ত পূরণ না করলে ভিসা পাওয়া কঠিন হবে। ফলে অভিবাসীদের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।   

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড কমানোর সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী অভিবাসন ও শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন আনবে। দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপে অভিবাসনের সুযোগ বাড়তে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য এখন দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শেখা এবং বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

Logo