বাহরাইন স্বাস্থ্য পর্যটনকে নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। শুরা কাউন্সিলে উপস্থাপিত খসড়া আইনে স্বাস্থ্য পর্যটন ভিসা চালু করা এবং একটি সুপ্রিম কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটিকে আঞ্চলিক স্বাস্থ্য পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পর্যটন ভিসাধারীরা বাহরাইনে এসে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, ডায়েট প্রোগ্রাম, পুনর্বাসন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে রোগীদের আগেই চিকিৎসা পরিকল্পনা, সম্ভাব্য ঝুঁকি, ফলাফল এবং খরচের বিস্তারিত লিখিতভাবে জানাতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিল আইটেমভিত্তিক দিতে হবে এবং নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
সুপ্রিম কমিটি ফর হেলথ ট্যুরিজম গঠনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নেবেন। এতে স্বাস্থ্য, পর্যটন, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি চিকিৎসা খাতের প্রতিনিধিরা থাকবেন। কমিটি জাতীয় স্বাস্থ্য পর্যটন পরিকল্পনা তৈরি, প্রচারণা চালানো, বহুভাষিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং বিদেশি রোগীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ করবে।
আইনটি কার্যকর হলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্বচ্ছতা ও রোগীর অধিকার নিশ্চিত হবে। রোগীরা আগেই খরচ সম্পর্কে ধারণা পাবেন এবং কোনো গোপন চার্জ থাকবে না। জাতীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে (NHRA) হাসপাতাল পরিদর্শন, রেকর্ড যাচাই এবং প্রয়োজনে সতর্কবার্তা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে।
বাহরাইনের অর্থনৈতিক ভিশন ২০৩০ এবং পর্যটন কৌশল ২০২২–২০২৬-এর অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পর্যটন বাজার ২০৩২ সালের মধ্যে ১৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাহরাইনকে দুবাই, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
কূটনীতিকরা মনে করছেন, নতুন আইন কার্যকর হলে রোগীদের আস্থা বাড়বে এবং বাহরাইন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য পর্যটনের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
logo-1-1740906910.png)