আইইএলটিএসে স্কোর নয়, লক্ষ্য থাকা উচিত ইংরেজিতে দক্ষতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭
ইংরেজি ভাষার সার্টিফিকেট নিয়ে চলমান বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে- আসলে ইংরেজি শেখার উদ্দেশ্য কী, আর কতটা দক্ষতা সত্যিই প্রয়োজন? ভিয়েতনামের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর ভর্তি প্রক্রিয়ায় আইইএলটিএস স্কোরের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে। একসময় আইইএলটিএসকে ভর্তি পরীক্ষায় বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হলেও এখন অনেকেই ভাবছেন, কেবল পরীক্ষার নম্বরই কি ইংরেজি দক্ষতার মানদণ্ড, নাকি ইংরেজি শেখার আসল উদ্দেশ্যই ভুলভাবে বোঝা হচ্ছে। ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম ভিএন এক্সপ্রেস এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।
বছরের পর বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী তাদের সময় ও অর্থের বড় অংশ ব্যয় করেছে ইংরেজি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। এর ফলে মূল একাডেমিক বিষয়গুলোকে তারা প্রায় উপেক্ষা করেছে। অথচ দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে হলে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানই সবচেয়ে জরুরি। ইংরেজিকে লক্ষ্য বানানো এই প্রবণতা ব্যয়বহুল এবং টেকসই নয়, কারণ ইংরেজি তখনই মূল্যবান যখন তা পড়াশোনা, গবেষণা বা কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগে।
আরেকটি বাস্তবতা হলো, আজকের দিনে প্রতিটি দেশেই মানুষ প্রতিদিন ইংরেজির সংস্পর্শে আসছে। পণ্যের লেবেল, সফটওয়্যারের ইন্টারফেস, কর্মক্ষেত্রের যোগাযোগ; সব জায়গায় ইংরেজি ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইংরেজি শেখা এখন আর কেবল ক্লাসরুম বা পরীক্ষার প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে না।
ভাষাবিজ্ঞান গবেষণা বলছে, মাত্র এক হাজার থেকে তিন হাজার সাধারণ ইংরেজি শব্দ আয়ত্ত করলেই দৈনন্দিন যোগাযোগের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বোঝা সম্ভব। বিশেষ করে মূল এক হাজার শব্দ জানলেই সাধারণ কথোপকথন ও পেশাগত কাজের বড় অংশ সামলানো যায়। কোনো শব্দকে যদি বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে অন্তত ২০ বার দেখা যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে মনে থাকে। অর্থাৎ কার্যকর ভাষা শেখা নির্ভর করে নিয়মিত ব্যবহার ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর, অতিরিক্ত মুখস্থ করার ওপর নয়।
তাই সার্টিফিকেটের পেছনে ছুটে সময় নষ্ট না করে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে পারে বাস্তব উপায়ে। পেশাগত বই পড়া, গবেষণা করা, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গণমাধ্যম অনুসরণ করা কিংবা দৈনন্দিন জীবনে ইংরেজিতে যোগাযোগ করা—এসবের মাধ্যমে ইংরেজি হয়ে ওঠে কার্যকর হাতিয়ার, পরীক্ষার বোঝা নয়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সার্টিফিকেটের গুরুত্ব কমানো ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে। এটি মনে করিয়ে দেয়, ইংরেজি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা যেন মূল শিক্ষার লক্ষ্যকে ছাপিয়ে না যায়। ইংরেজি যখন সঠিক ভূমিকায় থাকে, তখন তা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সুযোগ বিস্তারে সহায়তা করে। কিন্তু যখন কেবল নম্বরের দৌড়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তা হয়ে ওঠে ব্যয়বহুল ও ক্লান্তিকর প্রতিযোগিতা।
অতএব, ইংরেজি শেখার আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জন ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি। সার্টিফিকেট কেবল একটি মাধ্যম, কিন্তু লক্ষ্য নয়। ইংরেজিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারবে।
logo-1-1740906910.png)