রাস আল খাইমাহর পাহাড়ি ফুলের খামার এখন পর্যটনের আকর্ষণ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে আসিমাহ এলাকার পাহাড়ি ঢালে এক সময়ের ছোট্ট শখের জমি এখন রূপ নিয়েছে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণে। ১২ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই ফুলের খামারে এখন ৫০ হাজারেরও বেশি ফুল ফোটে, যা একে দেশের অন্যতম রঙিন প্রাকৃতিক গন্তব্যে পরিণত করেছে।
প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়েদ রাশিদ আল মাজরুই ২৯ বছর কাজ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। অবসর নেওয়ার পর তিনি পুরোপুরি কৃষিকাজে মন দেন। শৈশব থেকেই কৃষির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। বাবার কাছ থেকে শেখা সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রথমে প্রচলিত ফসল চাষ শুরু করেন, পরে ধীরে ধীরে বিরল ও শোভাময় ফুলের দিকে ঝুঁকেন। নেদারল্যান্ডস থেকে গ্ল্যাডিওলাস ফুলের বাল্ব এনে সফলভাবে চাষ করাই তার বড় অর্জন।
খামারের চারপাশে পাহাড়ি দৃশ্য, উঁচু-নিচু পথ আর সাজানো ফুলের সারি একে ইউরোপীয় গ্রামীণ পরিবেশের মতো করে তুলেছে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে রঙিন ফুলের মাঠে হাঁটতে পারেন, ঘোড়া ও হরিণের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। ফলে এটি পরিবারবান্ধব একটি প্রাকৃতিক ভ্রমণস্থল হয়ে উঠেছে।
শুধু ফুল চাষ নয়, আল মাজরুই এখন সুগন্ধি উৎপাদনের দিকেও এগিয়েছেন। স্থানীয় ও ইউরোপ থেকে আনা সুগন্ধি গাছ থেকে তেল সংগ্রহ করে সাবান, শ্যাম্পু ও প্রসাধনী তৈরির পরিকল্পনা চলছে। দ্বিতীয় মৌসুম থেকেই তিনি নিজস্ব ফুলের বীজ উৎপাদন শুরু করেন। প্রতি বছর চার হাজারের বেশি বীজের প্যাকেট বিক্রি হয়। ল্যাভেন্ডার চাষও বড় সাফল্য এনে দিয়েছে। গত মৌসুমে প্রথমবার ল্যাভেন্ডার তেল, শুকনো ফুল ও জৈব সাবান উৎপাদন করা হয়েছে। এখন ল্যাভেন্ডার শ্যাম্পু তৈরির কাজ চলছে।
গ্রীষ্মকালে যখন রাস আল খাইমাহর জমি বিশ্রামে থাকে, তখন তিনি পরিবার নিয়ে বসনিয়ার দ্বিতীয় খামারে যান। সেখানে ল্যাভেন্ডার গোলাপ চাষ শুরু হয়েছে। এটি “এমিরেটস রোজ ফার্ম” নামে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এক দশক আগে মাত্র ১০০টি গোলাপ দিয়ে শুরু হয়েছিল এই প্রকল্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুলের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর জনসাধারণের আগ্রহ বাড়ে। পরে তিনি খামারটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেন। এখন সপ্তম মৌসুমে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখানে আসেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা ও রাস আল খাইমাহর শাসক শেখ সউদ বিন সাকর আল কাসিমির স্বীকৃতি পেয়েছে এই উদ্যোগ।
প্রতিদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খামার খোলা থাকে। শুক্রবারে জুমার নামাজের পর খোলা হয়। এখানে শিশুদের জন্য ঘোড়ায় চড়ার সুযোগ, বাগানঘেরা ক্যাফে, পাখি ও ময়ূর দেখার ব্যবস্থা এবং ফুল তুলে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ১৫ দিরহাম। তবে তিন বছরের কম বয়সী শিশু, প্রবীণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশ ফি নেই।
logo-1-1740906910.png)