Logo
×

Follow Us

বিদেশে পড়াশোনা

দক্ষিণ কোরিয়ার ৩০ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৪৮

দক্ষিণ কোরিয়ার ৩০ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ

দক্ষিণ কোরিয়ার আঞ্চলিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। ২০২৭ সাল থেকে রাজধানী সিউলের বাইরের ৩০টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া দেশীয় শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগ দেশটির উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য পিআইই নিউজ। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবারের আয় বা আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা না করেই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া নতুন দক্ষিণ কোরীয় শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ টিউশন ফি সহায়তা পাবেন। পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক জনসংখ্যা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগের চাপ কমিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সরকার মনে করছে, আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সিউলের বাইরে পড়াশোনা ও কর্মজীবন গড়তে আগ্রহী হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় শিক্ষাব্যয় আগে থেকেই কম। দেশটিতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে গড় টিউশন ফি প্রায় ৪৩ লাখ কোরীয় ওন। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ব্যয় প্রায় ৮২ লাখ ওন। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার আর্থিক চাপ আরো কমবে।

তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আঞ্চলিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেশীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের শিক্ষার্থী সংখ্যা ও আর্থিক সক্ষমতা ধরে রাখতে এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির দিকে আরো বেশি মনোযোগী হতে পারে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আঞ্চলিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আঞ্চলিক বৃত্তির সংখ্যা ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সব শিক্ষার্থীর জন্য এ সুবিধা উন্মুক্ত থাকবে না।

দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান, নতুন আন্তঃবিষয়ক বিভাগ চালু এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তবে বিদেশি শিক্ষার্থী নিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন, কোরীয় ভাষা শিক্ষা, একাডেমিক পরামর্শ, মানসিক ও সামাজিক সহায়তা এবং পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালে দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ও ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের বিষয়ে কঠোর নজরদারির ঘোষণা দিয়েছে। ভর্তি কার্যক্রম, ভাষা শিক্ষা, একাডেমিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং অভিবাসনবিষয়ক নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলো এ নজরদারির আওতায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনা বেতনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দক্ষিণ কোরিয়ার আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একই সাথে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন শিক্ষার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানো নয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা, আবাসন ও কর্মজীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই এ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে।

Logo