অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও ভিসানীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত কঠোর করায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কড়াকড়ির পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা। শিক্ষার্থী ভিসাকে কেবল পড়াশোনার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান বা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ হিসেবে নেওয়ার প্রবণতা রোধ করতে ২০২৪ সালের মার্চে ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ (প্রকৃত শিক্ষার্থী) শর্ত চালু করা হয়েছে।
ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর বৈধ আপিলের অধিকার থাকলেও, কেবল অবস্থানের মেয়াদ দীর্ঘ করার উদ্দেশ্যে প্রসিডিউরাল লুপহোল বা আইনি সুযোগের অপব্যবহার রোধে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে কোর্স বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা আর্থিক যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু যদি মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা না হয়ে কেবল দেশটিতে প্রবেশ ও কাজ করা হয়, তবে তা পুরো শিক্ষার্থী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
স্বাগতিক দেশের সার্বভৌম আইন ও অভিবাসন শর্ত মেনে চলা প্রতিটি অভিবাসীর নৈতিক দায়িত্ব। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নীতিগত সমালোচনা বা অধিকারের কথা বলার অধিকার সবারই রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভিসানীতির পরিবর্তন, আবেদনপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব।
দেশের অভ্যন্তরে অসাধু ও অননুমোদিত শিক্ষা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে পড়াশোনা ও স্থায়ী বসবাসের অবাস্তব স্বপ্ন দেখিয়ে তরুণদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব প্রতারণা রোধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি, তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন না হয়।
অস্ট্রেলিয়াকে মেধাবী শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হলে নীতিমালায় যেমন স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রয়োজন, তেমনি আঞ্চলিক শ্রমবাজারের চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পারস্পরিক আস্থা, জবাবদিহি এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমেই কেবল একটি টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠা সম্ভব।
logo-1-1740906910.png)