অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন পরিবর্তনে চাপে উচ্চশিক্ষা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা সতর্ক করেছেন, নতুন অভিবাসন ও ভিসা নীতির কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশটিকে কম আকর্ষণীয় মনে করতে পারেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় খাতের আর্থিক চাপ আরো বাড়তে পারে।
সরকার ঘোষণা করেছে, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট ভিসাধারীরা আর পরিবারকে সঙ্গে আনতে পারবেন না। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আসিয়ান দেশগুলোর কিছু শিক্ষার্থী এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড় থাকবে।
Universities Australia এই সিদ্ধান্তে আংশিক সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড় রাখা ইতিবাচক। তবে বড় ধরনের কাটছাঁট করলে অর্থনীতি, বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। Regional Universities Network-এর চেয়ারম্যান ক্রিস মোরান বলেছেন, আঞ্চলিক অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আগের ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যেই বড় অর্থনৈতিক ঘাটতির মুখে পড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন Group of Eight জানিয়েছে, পিএইচডি শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সঙ্গে আনার সুযোগ রাখা জরুরি। কারণ তারা গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে বড় অবদান রাখে।
নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীরা কোর্স পরিবর্তন করলে নতুন ভিসার আবেদন করতে হবে। একই স্তরের কোর্সে পরিবর্তন করলেও নতুন ভিসা লাগবে। আর যারা পড়াশোনা শেষ করে নতুন কোর্সে ভর্তি হবেন, তাদের সাধারণত উচ্চতর স্তরে যেতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে নিট অভিবাসন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ জনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ কম। সরকার বলছে, ২০২৭-২৮ সালে এই সংখ্যা কমে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামবে।
গ্রুপ অব এইটের প্রধান ভিকি থমসন বলেছেন, “যদি আমরা বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের আকর্ষণ করতে চাই, তবে তাদের প্রতি অস্বাগত বার্তা দেওয়া বন্ধ করতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের বার্তা স্পষ্ট, অভিবাসন নীতিতে অতিরিক্ত কঠোরতা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করবে। আর এতে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ও গবেষণা খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
logo-1-1740906910.png)