জার্মানিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৪১
জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ভর্তি শিক্ষার্থীর ১৮ শতাংশই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। সংখ্যায় তা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজারের বেশি।
দেশটির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস আগস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৪ হাজার বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষে যেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীর হার ছিল মাত্র ৯ শতাংশ, সেখানে এখন তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উইসেনশাফট ভেলটোফেনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আসছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভারত থেকে এসেছে প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী, চীন থেকে ৩৯ হাজার, তুরস্ক থেকে ২১ হাজার, ইরান থেকে ১৭ হাজার এবং অস্ট্রিয়া থেকে ১৫ হাজারের বেশি।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য রয়েছে। প্রায় ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যাচেলর ডিগ্রি নিতে চান, আর ৪৭ শতাংশ মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন। বিষয়ভিত্তিকভাবে প্রকৌশল সবচেয়ে জনপ্রিয়, ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এই বিভাগে পড়ছেন। আইন, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান পড়ছেন প্রায় ২৫ শতাংশ।
জার্মানি এখন পড়াশোনার জন্য বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরে শিক্ষার্থীরা জার্মানিকে বেছে নিচ্ছেন। এর বড় কারণ হলো তুলনামূলক কম টিউশন ফি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা প্রায় বিনামূল্যে, আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে খরচ ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ইউরো।
জার্মানির অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের শিক্ষা দিচ্ছে। ২০২৬ সালের কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে প্রকৌশল, প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয়ে শীর্ষ ১০০-তে জায়গা করে নিয়েছে পাঁচ থেকে সাতটি জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়।
আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো ইংরেজি ভাষায় পড়ার সুযোগ। বর্তমানে জার্মানিতে ২ হাজার ৪০০-এর বেশি ইংরেজি টিচিং প্রোগ্রাম রয়েছে। ইউরোপে এ ক্ষেত্রে জার্মানি দ্বিতীয় স্থানে।
শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও উন্মুক্ত। পড়াশোনা শেষে তারা ১৮ মাস পর্যন্ত দেশে থেকে চাকরি খুঁজতে পারেন। এরপর কাজের অনুমতি, ইইউ ব্লু কার্ড, স্থায়ী বসবাস এবং নাগরিকত্বের পথ খোলা থাকে।
দেশটির অর্থনীতির জন্যও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৯.৫ মিলিয়ন মানুষ অবসর নেবেন, আর শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন মাত্র ১২ মিলিয়ন। এই ঘাটতি পূরণে দক্ষ কর্মী আকর্ষণ করা জরুরি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাই জার্মানির ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারে বড় ভূমিকা রাখবেন।
ডিএএডি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে জার্মানিতে থাকতে চান। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী দীর্ঘমেয়াদি চাকরি খুঁজতে আগ্রহী।
জার্মানি এখন শুধু পড়াশোনার দেশ নয়, বরং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানেরও এক সম্ভাবনাময় গন্তব্য। কে-পপের মতো সাংস্কৃতিক ঢেউ এশিয়ায় তরুণদের টেনে নিচ্ছে, আর জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের দিচ্ছে বিশ্বমানের শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের সুযোগ।
logo-1-1740906910.png)