সৌদি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ফিলিপাইনের বিশ্ববিদ্যালয়ে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৩
ফিলিপাইনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার প্রতি সৌদি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ১০০ জন সৌদি শিক্ষার্থী দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। তারা বলছেন, ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা, বিশ্বমানের চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষা এবং তুলনামূলক কম খরচই তাদের ফিলিপাইনকে বেছে নিতে উৎসাহিত করছে।
২০১৬ সালে সৌদি নাগরিক আহমেদ ওয়ালি প্রথমে ইংরেজি শেখার জন্য ম্যানিলায় আসেন। এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি ফিলিপাইনে পড়াশোনা শুরু করেন। ওয়ালি বলেন, “এখানে মানুষ খুবই বন্ধুবৎসল, ইংরেজি শেখানো হয় একান্তভাবে, যা আমাকে দ্রুত উন্নতি করতে সাহায্য করেছে।”
পরে তিনি চিকিৎসাশিক্ষায় ভর্তি হন এবং ২০২৪ সালে ম্যানিলার একটি কলেজ থেকে ডেন্টিস্ট্রিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার সময় তিনি দ্বীপাঞ্চলে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। দেশে ফিরে দেখেছেন, ফিলিপাইনে পাওয়া ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
ওয়ালি এখন ‘মুস্তাশার ফিলিপাইন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান, যা সৌদি শিক্ষার্থীদের ফিলিপাইনে পড়াশোনার জন্য ভর্তি ও থাকার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করে। তিনি জানান, সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ফিলিপাইনের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুমোদন দিয়েছে। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হলে সৌদি আরবে চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়।
সৌদি দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান কামাল জামিল আল-উইদিয়ানি বলেন, “ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা, বিশ্বমানের ডিগ্রি, বিশেষ করে চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষা, এবং কম খরচ; এসবই সৌদি শিক্ষার্থীদের ফিলিপাইনকে বেছে নিতে উৎসাহিত করছে।”
তিনি জানান, ফিলিপাইনে চিকিৎসাশিক্ষার বার্ষিক খরচ প্রায় ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার ডলার। ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এটি অনেক কম। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার খরচও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।
ফাতিমা আল-সলমি ২০২৪ সাল থেকে ফিলিপাইন উইমেনস ইউনিভার্সিটিতে নার্সিং পড়ছেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা নার্স ছিলেন, তার অনেক সহকর্মী ছিলেন ফিলিপিনো। তাদের কাছ থেকে ভালো অভিজ্ঞতা শুনে আমি এখানে পড়তে এসেছি। এখানে এসে আমি স্বাধীনতা, সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভিন্ন মানুষকে বোঝার শিক্ষা পেয়েছি।”
আরেক শিক্ষার্থী নুজুদ আদেল বলেন, “ফিলিপাইন নার্সিং শিক্ষায় বিশ্বখ্যাত। এখানে পড়াশোনা করে আমি ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করছি এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা পাচ্ছি। দেশে ফিরে আমি সৌদি স্বাস্থ্য খাতে অবদান রাখতে চাই।”
ফিলিপাইনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সৌদি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা, বিশ্বমানের চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষা এবং কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ তাদের আকৃষ্ট করছে। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে এসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
logo-1-1740906910.png)