Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদেশে নারী কর্মসংস্থান বাড়লেও নির্ভরতা সৌদি আরব ও জর্ডানে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪

বিদেশে নারী কর্মসংস্থান বাড়লেও নির্ভরতা সৌদি আরব ও জর্ডানে

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ থেকে ৪২ হাজারের বেশি নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। তাদের ৯০ শতাংশের বেশি গেছেন মাত্র দুটি দেশে; সৌদি আরব ও জর্ডানে। গৃহকর্মী ছাড়া নতুন কোনো খাতে নারীদের পাঠানোর সুযোগ তৈরি না হওয়ায় কর্মসংস্থান মূলত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রয়ে গেছে।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদেশে গিয়েছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার নারী কর্মী। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬২ হাজারে। তিন বছরে হ্রাস প্রায় ৪১ শতাংশ। তবে এ বছর আগের বছরের তুলনায় নারী কর্মী যাওয়া বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।

ফিরে আসা নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, একাধিক বাড়িতে কাজ করানো, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, বেতন ও খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। অনেকেই অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছেন। কেউ কেউ টিকতে না পেরে নিজের খরচে টিকিট করে দেশে ফিরেছেন।

মানিকগঞ্জের অঞ্জনা সৌদি আরবে মাত্র এক মাস ছিলেন। কাজের বদলে রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যালয়ে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হন। নরসিংদীর সানজীদা আখতারও একই অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি বলেন, “শুধু রুটি খেতে দেয়, ভাত ছাড়া থাকা যায় না।”

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, সৌদিতে সেফ হোম চালু আছে। ১৩টি দেশে আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্যাতন কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি জাপান ও হংকংয়ের মতো দক্ষ কর্মীর বাজারে নজর দেওয়া হচ্ছে। কেয়ারগিভার ও হাউসকিপিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।

ব্র্যাক, রামরু, ওকাপ ও নারী শ্রমিক কেন্দ্র ফিরে আসা কর্মীদের সেবা দিচ্ছে। এসব সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক নারী অসুস্থ হয়ে ফেরেন। তাদের দীর্ঘ সময় কাজ করানো হয়, বেতন কম দেওয়া হয়, খাবার অনিয়মিত থাকে। কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন।

ওকাপের গবেষণা বলছে, ৯৪ শতাংশ নারী কর্মী বিদেশে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৪৭ শতাংশ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ৮২ শতাংশকে ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা নারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছে। ফলে নতুন করে বিদেশে যেতে আগ্রহ কমছে।

নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষায় অনেক এগিয়েছে। প্রয়োজনে তারা শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করেছে। বাংলাদেশ এখনো সেই অবস্থায় যেতে পারেনি।

বিদেশে নারী কর্মসংস্থান কিছুটা বাড়লেও নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে আগ্রহ কমছে। নতুন খাত ও নিরাপদ বাজার তৈরি না হলে নারীদের কর্মসংস্থান সংকটে পড়বে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

Logo