জার্মানিতে পড়াশোনা শেষ করার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সামনে খুলে যায় নানা সম্ভাবনার দরজা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ড, লিচেনস্টেইন, নরওয়ে ও আইসল্যান্ডের নাগরিকদের জন্য আলাদা ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের প্রয়োজন নেই। তবে তৃতীয় দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুযোগ। ১৮ মাসের রেসিডেন্স পারমিট, যা চাকরি খোঁজার সময় কাজে আসে।
তৃতীয় দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর সর্বোচ্চ ১৮ মাসের রেসিডেন্স পারমিট পেতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে যে কোনো ধরনের চাকরি করা যায়। তবে এটি নবায়নযোগ্য নয়। এ জন্য প্রয়োজন পড়াশোনা সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ, স্বাস্থ্যবিমার কাগজপত্র এবং জীবিকা নির্বাহের সক্ষমতার প্রমাণ। আবেদন করার আগে স্থানীয় বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।
যদি পড়াশোনা শেষে সরাসরি কোনো চাকরির অফার থাকে, তবে রেসিডেন্স পারমিট বা ইইউ ব্লু কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়। চাকরিটি পড়াশোনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও সমস্যা নেই, তবে নিয়ন্ত্রিত পেশায় কাজ করতে চাইলে আলাদা লাইসেন্স প্রয়োজন। চাকরির অফার, স্বাস্থ্যবিমা এবং পড়াশোনা সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।
পড়াশোনা শেষে কেউ চাইলে জার্মানিতে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এ জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত রেসিডেন্স পারমিট। বিভিন্ন স্টার্টআপ পরামর্শক সংস্থা এ বিষয়ে সহায়তা করে।
জার্মানিতে পিএইচডি করার সুযোগও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক গবেষকদের স্বাগত জানায়। পিএইচডি করার সময় অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেন বা গবেষণার জন্য অনুদান পান। এজন্য পড়াশোনা, গবেষণা বা ইইউ ব্লু কার্ডের মাধ্যমে রেসিডেন্স পারমিট নিতে হয়।
যারা পড়াশোনা শেষে আরো ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে ভোকেশনাল ট্রেনিং। কোম্পানিতে কাজের পাশাপাশি ভোকেশনাল স্কুলে পড়াশোনা করা যায়। তৃতীয় দেশের শিক্ষার্থীদের এজন্য রেসিডেন্স পারমিট নিতে হয়।
জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়তে নানা সহায়তা দেয়। ক্যারিয়ার সেন্টার, আন্তর্জাতিক অফিস, জব ফেয়ার ও কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকে। এছাড়া ডিএএডির “ক্যাম্পাস ইনিশিয়েটিভ ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্যালেন্টস” প্রকল্প শিক্ষার্থীদের শ্রমবাজারে প্রবেশে সহায়তা করে।
ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিও বিনামূল্যে চাকরি খোঁজার নানা সহায়তা প্রদান করে।
logo-1-1740906910.png)