এক বছরে সৌদি থেকে ৪ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি প্রবাসীকে ফেরত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩০
সৌদি আরব গত এক বছরে অবৈধ বসবাস ও শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৪ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। দেশটিতে অবৈধ প্রবেশ ও অনিয়ম ঠেকাতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার করছে কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হজ ও ওমরাহ পালন করতে আসা মুসল্লি থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশের ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের জন্য সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে অভিবাসন ও শ্রম আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘনের কারণে দেশটিতে এখন অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধ ভ্রমণকারীদের জন্য দেশটি উন্মুক্ত থাকলেও একটি অংশ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছে, অবৈধভাবে কাজ করছে কিংবা সীমান্তপথে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করছে। এসব ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মাঠপর্যায়ে অভিযান চালাচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর এসব অভিযানে মোট ৭ লাখ ৮২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বড় অংশ সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এর মধ্যে ইয়েমেনি নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ইথিওপিয়া ও অন্যান্য দেশের নাগরিকও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শুধু গত বছরেই প্রায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার ২০০ জনকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জনকে দেশছাড়া করা হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, যারা অবৈধ প্রবেশে সহায়তা করবে যেমন পরিবহন সুবিধা দেওয়া, আশ্রয় দেওয়া বা অন্য কোনো সেবা প্রদান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তির মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তি জব্দ।
কর্তৃপক্ষ বলছে, সৌদি আরব বৈধপথে ভ্রমণ, হজ, ওমরাহ ও পর্যটনের জন্য বিস্তৃত সুযোগ রেখেছে। বর্তমানে পর্যটন ভিসা, অন-অ্যারাইভাল ভিসা, ট্রানজিট ভিসা ও কনস্যুলার ভিসাসহ একাধিক ভিসা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)