দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন পাইলট প্রকল্পে বিদেশি গৃহকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের কাজের পরিবেশ নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, এই প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া বিদেশি গৃহকর্মীরা অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন অথচ তাদের বেতন স্থানীয় মানের তুলনায় অনেক কম। বিষয়টি শ্রম অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে এ সংবাদ জানা যায়।
সরকারি উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় পরিবারগুলোকে সাশ্রয়ী শ্রমিক সরবরাহ করা এবং বিদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক শ্রমিককে প্রতিদিন গড়ে ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হচ্ছে। তাদের মাসিক বেতন স্থানীয় গৃহকর্মীদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। অনেক শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা সপ্তাহে মাত্র একদিন ছুটি পাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ছুটিও পাচ্ছেন না।
জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, তাদের কাজের সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। অতিরিক্ত কাজের জন্য কোনো অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। বাসায় থাকার কারণে কাজের চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন।
কিছু নিয়োগকর্তা মনে করেন, বিদেশি গৃহকর্মীদের নিয়োগ খরচ কম হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তবে শ্রম অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি শ্রমিকদের শোষণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর নিয়ম অনুযায়ী, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, কাজের সময়সীমা এবং বিশ্রামের অধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে, এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প। তারা শ্রমিকদের অভিযোগ ও জরিপের ফলাফল পর্যালোচনা করছে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি চালু করার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় পরিবারগুলোকে সহায়তা করা এবং বিদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা। তবে অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রকল্পের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বিদেশি গৃহকর্মীদের ন্যায্য মজুরি ও কাজের সময়সীমা নিশ্চিত না করলে এই প্রকল্প আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হবে। তারা মনে করছে, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশি গৃহকর্মী নিয়োগ প্রকল্পটি বর্তমানে অতিরিক্ত কাজ ও কম বেতনের কারণে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। সরকার যদি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে না পারে, তবে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
logo-1-1740906910.png)