বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রবণতা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ব্যাহত করছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১.২ শতাংশে। এতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। একই সময়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন কোটির বেশি।
সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এ কে এম আতিকুর রহমান বলছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। দুর্বল শাসনব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সংকোচন এবং বৈষম্য বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো আরো বিপদে পড়ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও রেমিট্যান্সকে দারিদ্র্য হ্রাসের অন্যতম পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, প্রবাসী আয় দেশের দরিদ্র পরিবারগুলোকে সচ্ছল করেছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকাশিত এক কলামে লেখক বলেছেন, অভিবাসন ব্যয় বেশি হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের কর্মীরা বিদেশে যেতে পারছেন না। আবার অভ্যন্তরীণ অভিবাসীরা শহরে গিয়ে মানবেতর জীবনযাত্রার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ কারণে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্তত ১২টি প্রধান শ্রমবাজার ছিল। বর্তমানে তা সংকুচিত হয়ে মাত্র দুই-তিনটি দেশে সীমাবদ্ধ। সৌদি আরব এখন প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বিদেশে যাওয়া ১০ লাখের বেশি কর্মীর মধ্যে প্রায় সাত লাখই সৌদি আরবে গেছেন। বাকিরা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালদ্বীপ, ওমান ও সিঙ্গাপুরে গেছেন। কিন্তু এসব কর্মীর বড় অংশই অদক্ষ।
অদক্ষ কর্মী প্রেরণের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দেশ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ করেছে। ওমান, বাহরাইন, লিবিয়া, সুদান, মিসর, রোমানিয়া ও ব্রুনেই দীর্ঘদিন ধরে কর্মী গ্রহণ বন্ধ রেখেছে। মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের কারণে কর্মী নেওয়া স্থগিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না করলেও ভিসা প্রদান স্থগিত রেখেছে।
এদিকে জাপান আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দেড় হাজার কর্মী সেখানে গেছেন। এর কারণ দক্ষ কর্মীর অভাব। ফলে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি বা বন্ধ হওয়া বাজারগুলো পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে না।
জনাব আতিকুর রহমান মনে করেন, দারিদ্র্য রোধ ও প্রবাস আয় বাড়াতে হলে দক্ষ কর্মী প্রেরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দরিদ্র পরিবার থেকে কর্মী প্রেরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। অভিবাসন ব্যয় সংকুলানের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা হলে আরও বেশি মানুষ বিদেশে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে শোষণমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে হবে।
logo-1-1740906910.png)