জাপানে স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার বা এসএসডব্লিউ ভিসাধারীর সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জুনের শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ২৫৬ জনে। ডিসেম্বরের তুলনায় এটি প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি। এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে এক লাখেরও বেশি।
এসএসডব্লিউ টাইপ-১ ভিসাধারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এই ভিসায় কাজ করছেন। তারা নির্দিষ্ট দক্ষতা নিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত জাপানে থাকতে পারেন। টাইপ-২ ভিসাধারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ডিসেম্বরের শেষে যেখানে ছিল প্রায় ৮ হাজার, জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজারের বেশি। এই ভিসা দক্ষ কর্মীদের জন্য, যা অনির্দিষ্টকাল নবায়নযোগ্য।
ভিয়েতনাম থেকে আসা কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জুনে তাদের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার, যা মোটের প্রায় ৩৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন ও চীন। ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা কর্মীর সংখ্যা ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে।
কোন খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মী কাজ করছেন, সেটিও স্পষ্ট। খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন খাতে কর্মী সংখ্যা এক লাখের বেশি। নার্সিং কেয়ারে প্রায় ৮০ হাজার। শিল্পপণ্য উৎপাদনে ৬২ হাজার। নির্মাণ খাতে ৫২ হাজারের বেশি। খাদ্য পরিবেশন খাতে প্রায় ৫০ হাজার। কৃষিতে ৪৪ হাজারের বেশি। ছোট খাতেও দ্রুত বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। যেমন সড়ক পরিবহন খাতে কর্মী সংখ্যা কয়েক মাসে চার গুণ বেড়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে। আইচি প্রিফেকচারে সবচেয়ে বেশি কর্মী, প্রায় ৩১ হাজার। এরপর টোকিও ও ওসাকা।
তবে এই প্রবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা করছে সরকার। ২০২৭ অর্থবছর থেকে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামের পরিবর্তে নতুন ‘এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সিস্টেম চালু হবে। এর মাধ্যমে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এসএসডব্লিউ টাইপ-১ ভিসায় রূপান্তর করা হবে।
সরকার খাতভিত্তিক সীমা নির্ধারণ করেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এসএসডব্লিউ টাইপ-১ ভিসায় সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৫ হাজার কর্মী এবং নতুন সিস্টেমে ৪ লাখ ২৬ হাজার কর্মী নেওয়া হবে। মোট সীমা প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার।
কোনো খাতে সীমা ছাড়িয়ে গেলে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করা হবে। খাদ্য পরিবেশন খাতে এর উদাহরণ দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে কর্মী সংখ্যা ৪৬ হাজারে পৌঁছায়। সীমা ছিল ৫০ হাজার। তাই এপ্রিল থেকে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। জুনে খাতটিতে কর্মী সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪৯ হাজারে।
জাপান ২০১৯ সালে এসএসডব্লিউ ব্যবস্থা চালু করে। জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক শ্রমশক্তির কারণে দেশটি বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। নতুন সীমা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকার বলছে, শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ হবে, আবার ভারসাম্যও বজায় থাকবে।
logo-1-1740906910.png)