Logo
×

Follow Us

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ছুটির ভিসা পরিবর্তনে বিপাকে পর্যটন ও কৃষি খাত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬

অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ছুটির ভিসা পরিবর্তনে বিপাকে পর্যটন ও কৃষি খাত

অস্ট্রেলিয়ার ফার নর্থ কুইন্সল্যান্ডে পর্যটন মৌসুম জমজমাট। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাজের ছুটির ভিসায় নতুন পরিবর্তন তাদের কর্মী সংকটে ফেলছে। এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদনে ক্রিস্টালব্রুক কালেকশনের প্রধান নির্বাহী জিওফ ইয়র্ক জানান, তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক কর্মীই কাজের ছুটির ভিসায় আছেন। কিন্তু নতুন নিয়মে দ্বিতীয় বছরের ভিসা পেতে ৮৮ দিন আঞ্চলিক এলাকায় কাজ করার পরও লটারিতে অংশ নিতে হবে। সুযোগ মাত্র এক-ষষ্ঠাংশ। ফলে অনেকেই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

তিনি বলেন, “আমার দুইটি হোটেলে ৩০০টি করে রুম আছে। কিন্তু কর্মী সংকটে হয়তো ২৫০টি রুমই চালু রাখতে পারব।”

নতুন নিয়মে দ্বিতীয় বছরের ভিসা সীমিত করা হয়েছে ৪৫ হাজারে, যা আগে ছিল ৫৭ হাজার। তৃতীয় বছরের ভিসা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ হাজারে, যেখানে আগে ছিল ৩১ হাজার।

পর্যটন ট্রপিকাল নর্থ কুইন্সল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী মার্ক ওলসেন বলেন, ব্যাকপ্যাকাররা শুধু কর্মী নয়, তারা ভাষাগত বৈচিত্র্যও নিয়ে আসে। স্কাইডাইভিং, বাঞ্জি জাম্পিং বা ডাইভিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনে তাদের ভাষাজ্ঞান নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, “তাদের থাকার জায়গা সাধারণত হোস্টেল বা ফার্মে। তাই আবাসন সংকটের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

কেয়ার্নস চেম্বার অব কমার্সের প্রধান প্যাট্রিসিয়া ও’নিল বলেন, এই পরিবর্তন শিশু যত্ন, বৃদ্ধসেবা, নির্মাণ ও শ্রম খাতেও বড় ধাক্কা দেবে।

কৃষি খাতেও একই উদ্বেগ। এফএনকিউ গ্রোয়ার্সের সভাপতি জো মোরো বলেন, ব্যাকপ্যাকাররা ফার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের ১৫ হাজার কৃষিশ্রমিকের এক–তৃতীয়াংশ। তারা না থাকলে ফলমূল সংগ্রহে বড় সমস্যা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “কিছু ফসল হয়তো মাঠেই নষ্ট হবে। শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বেশি দাম দিতে হবে।”

সরকার বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের কর্মীরা এই শূন্যতা পূরণ করবে। মন্ত্রী প্যাট কনরয় বলেন, “আমাদের কাছে হাজারো প্রশান্ত মহাসাগরীয় কর্মী প্রস্তুত আছে। তারা এই কাজগুলো করবে।”

লেইচহার্ট এমপি ম্যাট স্মিথ বলেন, নতুন ভিসা ব্যবস্থা নিয়ে সব পক্ষকে আলোচনায় আসতে হবে। এর মধ্যে তিনি স্থানীয় পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন।

কুইন্সল্যান্ডের ক্রীড়া মন্ত্রী টিম ম্যান্ডার বলেন, এই পরিবর্তন ব্রিসবেন অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে না। তিনি আশ্বাস দেন, “আমরা প্রস্তুত থাকব। আগামী কয়েক বছরে আরো অগ্রগতি দেখা যাবে।

Logo