বাহরাইনের ভারপ্রাপ্ত শ্রমমন্ত্রী ইউসুফ বিন আবদুলহুসেইন খালাফ জানিয়েছেন, কোনো চাকরি আবেদনকারীর যোগ্যতার সঙ্গে মিল না থাকলে তাকে কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা নিজেরাই জাতীয় কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপযুক্ত চাকরির জন্য আবেদন করেন। এখানে প্রতিটি শূন্যপদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকে- বেতন, পদবি, যোগ্যতা, বিশেষায়ন, নিয়োগকর্তার নাম, অবস্থান ও কাজের সময়সূচি। ফলে আবেদনকারীরা নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে চাকরি বেছে নিতে পারেন।
মন্ত্রী আরো জানান, ইলেকট্রনিক সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো চাকরিপ্রার্থী নিয়োগকর্তার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে আবেদন করতে না পারেন। সংসদ সদস্য খালিদ বুয়াংয়ের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ১১ হাজার ৪৫২ জন বেকার ভাতা পাচ্ছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৯ জন এক বছরের কম সময় ধরে বেকার, ৬ হাজার ২৫৮ জন এক থেকে পাঁচ বছর ধরে বেকার এবং ১ হাজার ৭১৫ জন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি খুঁজছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, বেকার ভাতা কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
মন্ত্রী খালাফ বলেন, চাকরির সুযোগ সরাসরি মন্ত্রণালয় দেয় না। নিয়োগকর্তারা প্ল্যাটফর্মে শূন্যপদ প্রকাশ করেন। মন্ত্রণালয় শুধু যাচাই করে দেখে বেতন, যোগ্যতা ও বিশেষায়ন সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কিনা। এরপর চাকরিপ্রার্থীরা স্বাধীনভাবে আবেদন করতে পারেন। যারা বারবার আবেদন এড়িয়ে যান, তাদের পরামর্শ সেশনে ডাকা হয়।
তিনি আরো বলেন, যারা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বেকার ভাতা পাচ্ছেন, তারা আইন অনুযায়ী দুইবার চাকরির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেননি। তাই মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।
ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বছরের শেষ নাগাদ প্রতিটি চাকরিপ্রার্থীর জন্য তিনটি সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তামকিন, শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এবং বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আরো বেশি শূন্যপদ সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাড়ানো এবং বেতন সহায়তা উদ্যোগ জোরদার করা।
সব মিলিয়ে বাহরাইন সরকার নিশ্চিত করছে যে চাকরি নিয়োগে যোগ্যতার সঙ্গে মিল বাধ্যতামূলক এবং বেকারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
logo-1-1740906910.png)