Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রেমিট্যান্সের আড়ালে প্রবাসী নারীদের বেদনাময় বাস্তবতা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:২৩

রেমিট্যান্সের আড়ালে প্রবাসী নারীদের বেদনাময় বাস্তবতা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার সমৃদ্ধ করে এবং লাখো পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তবে এই অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে থাকা প্রবাসী নারী শ্রমিকদের বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই থেকে যায় আড়ালে।

অভিবাসন ও নারী অধিকার নিয়ে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিদেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি নারী এখনো বিভিন্ন ধরনের শোষণ, নির্যাতন, বেতন বঞ্চনা, চলাফেরায় বাধা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং যৌন সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৬৮৭ জন নারী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন, যাদের মধ্যে ৯৭৯ জনই সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে শুধু কর্মচুক্তি শেষ হওয়া নয়, নির্যাতন ও প্রতিকূল কর্মপরিবেশও বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।

অনেক নারী শ্রমিক প্রতিশ্রুত কাজের পরিবর্তে অন্য কাজে নিয়োজিত হন। কারো পাসপোর্ট জব্দ করা হয়, কেউ পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ছুটি পান না, আবার কেউ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার নারীরা দেশে ফিরে এলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত পুনর্বাসন বা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয় না।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সমস্যার বড় একটি অংশ শ্রমিক পাঠানোর পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। বিদেশে যাওয়ার আগে অনেক নারী প্রকৃত কর্মপরিবেশ, চুক্তির শর্ত কিংবা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পান না। অন্যদিকে প্রতারক দালাল ও অসাধু এজেন্সির তৎপরতাও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠিয়ে রাষ্ট্র যেমন রেমিট্যান্সের সুবিধা ভোগ করছে, তেমনি তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুধু ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ উপাধি নয়, বাস্তব সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

এ জন্য প্রতারণায় জড়িত দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, বিদেশযাত্রার আগে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, সহজ ভাষায় কর্মচুক্তি ব্যাখ্যা, গন্তব্য দেশের সঙ্গে শ্রমিক অধিকারভিত্তিক চুক্তি এবং দেশে ফেরত নারীদের পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী শ্রমিকদের অবদান শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতারও অংশ। অর্থনীতির সাফল্য তখনই অর্থবহ হবে, যখন সেই সাফল্যের পেছনের মানুষগুলোর অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

Logo