Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রোমে বিমানবন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দুর্ভোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭

রোমে বিমানবন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দুর্ভোগ

রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩০৬ ফ্লাইটের শতাধিক বাংলাদেশি যাত্রী। টরন্টো থেকে ঢাকাগামী এই ফ্লাইটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৭ আগস্ট সকালে জরুরি অবতরণ করে। শুরুতে যাত্রীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, এক ঘণ্টার মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেই অপেক্ষা দুই দিনেও শেষ হয়নি।

শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, কেবল কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকিদের বিমানবন্দরের লাউঞ্জে রাত কাটাতে হচ্ছে। অনেকেই মেঝেতে শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছেন।

আড়াইশর বেশি যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি টরন্টো থেকে যাত্রা শুরু করে। আট ঘণ্টা উড়ার পর জ্বালানি সঞ্চালন ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। ফলে রোমে জরুরি অবতরণ করতে হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রতি ঘণ্টায় বিপুল অঙ্কের চার্জ দিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। ৪০ ঘণ্টায় এই ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, প্রথমে তাদের এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে ছয়-সাত ঘণ্টা কেটে গেলেও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। অবশেষে জানানো হয়, বিমানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এরপর লাউঞ্জে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের অনেকেই না খেয়ে, না ঘুমিয়ে মেঝেতে রাত কাটাচ্ছেন।

একজন যাত্রী বলেন, “সবাই ফ্লোরিং করছে। যারা বাচ্চা নিয়ে এসেছেন, তাদের অবস্থা খুব খারাপ। সিনিয়র সিটিজেনদের দুর্ভোগ আরো বেশি।”

যাত্রীদের অভিযোগ, প্রথম ১২ ঘণ্টায় বিমান বা দূতাবাসের পক্ষ থেকে কেউ তাদের কাছে আসেননি। পরে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধি সেখানে যান। কিন্তু পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়নি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি বর্তমানে ‘এয়ারক্রাফট অন গ্রাউন্ড’ অবস্থায় রয়েছে। কারিগরি ত্রুটি সমাধানে বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশলী দল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ রোমে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার রাত ১০টায় ফ্লাইটটি রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়তে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে ত্রুটি মেরামতের অগ্রগতির ওপর।

বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে কারিগরি সহযোগিতার ঘাটতি ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

যাত্রীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ এখন ফ্লাইট বিলম্ব নয়, বরং দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে খাবার ও বিশ্রামের অভাব। তাদের প্রশ্ন, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য কেন আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

Logo