স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছোট্ট এক্সক্লেভ সেউতায় মরক্কো থেকে অভিবাসীদের অভূতপূর্ব ঢল নেমেছে। মাত্র কয়েক দিনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তবে স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এদের বেশির ভাগই ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছে।
সিএনএন প্রতিবেদন বলছে, এই ঢলের সময় অন্তত ৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই পানিতে ডুবে মারা যান। ৩০ জুলাই সীমান্তে হঠাৎ করে হাজার হাজার মানুষ ঢুকে পড়ায় সীমান্তরক্ষীরা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাটিকে দেশের "ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন" বলে উল্লেখ করেছেন এবং মানব পাচারকারীদের ছড়ানো ভুয়া তথ্যকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “যা ঘটেছে, তা নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।”
সেউতার জনসংখ্যা মাত্র ৮৪ হাজার। হঠাৎ করে কয়েক হাজার মানুষ ঢুকে পড়ায় শহরটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। খাবার ও আশ্রয়ের অভাবে অনেকেই আবার মরক্কোতে ফিরে যান।
ইতালি নিরাপত্তার কারণে স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের জন্য সাময়িকভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে এনেছে। আগামী এক মাস ধরে নন-ইইউ নাগরিকদের জন্য বিশেষ যাচাই চলবে। ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেছেন, “আমাদের নিয়ম না মেনে কেউ ইউরোপে ঢুকতে পারবে না।”
স্পেনের অভ্যন্তরে এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল ভক্সের নেতা সান্তিয়াগো আবাসকাল প্রধানমন্ত্রীকে “জাতির শত্রু” আখ্যা দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রও স্পেনের অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছে। ওয়াশিংটন বলেছে, সরকারের নীতিই এই ধরনের অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে ইউরোপে অভিবাসন সংকট আরো বাড়বে এবং এটি মার্কিন রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মরক্কো কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্তে কঠোরতা দেখায়নি। কারণ তারা সেউতা ও মেলিলাকে স্পেনের "অধিকৃত অঞ্চল" হিসেবে দেখে। ফলে সীমান্তে ঢল নামার সময় মরক্কোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, সেউতায় অভিবাসীদের এই ঢল ইউরোপে নতুন করে অভিবাসন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। স্পেনের জন্য এটি মানবিক ও রাজনৈতিক উভয় সংকট। ইউরোপীয় দেশগুলো সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে, আর স্পেনের অভ্যন্তরে সরকারকে তীব্র চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। মরক্কো থেকে আসা তরুণদের হতাশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্য এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন মিলিয়ে এই সংকট ইউরোপের অভিবাসন নীতিকে আরো কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
logo-1-1740906910.png)