Logo
×

Follow Us

এশিয়া

সাইবার অপরাধের নতুন ঘাঁটি শ্রীলঙ্কা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪

সাইবার অপরাধের নতুন ঘাঁটি শ্রীলঙ্কা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কঠোর অভিযানের পর চীনা অপরাধ চক্রগুলো তাদের বিশাল সাইবার প্রতারণার নেটওয়ার্ক শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশটিতে পর্যটক ভিসা পাওয়া সহজ, সিম কার্ড ও ইন্টারনেট সংযোগে নিয়ন্ত্রণ সীমিত এবং সস্তায় অফিস ও হোটেল ভাড়া পাওয়া যায়; এসব কারণে শ্রীলঙ্কা দ্রুতই আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

শ্রীলঙ্কা পুলিশের মুখপাত্র ফ্রেডরিক উটলার জানিয়েছেন, দেশটিতে পর্যটক হিসেবে প্রবেশ করে বিদেশি নাগরিকরা অবৈধভাবে প্রতারণার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। চলতি বছরের শুরু থেকে অন্তত ডজনখানেক অভিযানে প্রায় ৭০০ বিদেশিকে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে রাজধানী কলম্বোতে ১৮ জন চীনা ও একজন লাওস নাগরিককে আটক করা হয়।

অভিযানে পাওয়া গেছে জাল মার্কিন ট্রেজারি নথি, ভুয়া কোম্পানি নিবন্ধনপত্র, জাল আইনি সনদ এবং ৬২টি পাসপোর্ট। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্তরা ফোন, ল্যাপটপ, পেনড্রাইভ, প্রসেসর, নকল সিলমোহরসহ বিপুল পরিমাণ জাল নথি ব্যবহার করছিল। একটি ভুয়া মার্কিন কোম্পানিকে ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

পুলিশ সুপার কামাল আরিয়াওয়ানসা নিশ্চিত করেছেন, এটি একটি চীনা অপরাধ সিন্ডিকেট, যারা মার্কিন নাগরিকদের ভুয়া বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছিল।

গত এক দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্পাউন্ডগুলো থেকে পরিচালিত সাইবার প্রতারণা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের বিশাল ঘাঁটি থেকে রোমান্স স্ক্যাম, ক্রিপ্টো জালিয়াতি, অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিং চালানো হতো। যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আমেরিকানরা এসব প্রতারণায় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে।

কিন্তু স্থানীয় সরকারের চাপ বাড়ায় এসব ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। ফলে চীনা সিন্ডিকেটগুলো নতুন আশ্রয় হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে বেছে নিয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় তারা বড় কম্পাউন্ড না বানিয়ে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিসে তিন মাস অন্তর স্থান পরিবর্তন করছে। এক অভিযানে দেখা গেছে, একটি সিন্ডিকেট পুরো আটতলা ভবন ভাড়া নিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, বিদেশি চক্রের কারণে অফিস ভাড়ার দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

কলম্বোতে চীনা দূতাবাস স্বীকার করেছে, তাদের নাগরিকরা টেলিফোন প্রতারণায় জড়িত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অভিযান শুরু হওয়ার পর তারা শ্রীলঙ্কায় চলে এসেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, তারা শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছে।

সাইবার অপরাধ গবেষক মার্ক বো বলেন, দুই বছর আগে থেকেই টেলিগ্রাম চ্যানেলে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আলোচনা শুরু হয়। কম্বোডিয়ায় অভিযান জোরদার হওয়ার পর অনেকেই শ্রীলঙ্কায় চলে আসে। তিনি বলেন, “এটি প্রমাণ করে এই শিল্প কতটা মোবাইল ও অভিযোজনক্ষম।”

Logo