যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের নিচে শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার/এক্স, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশাধিকার থাকবে না। একই সঙ্গে কিছু স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটেও নিষেধাজ্ঞা আসছে, যদিও সেগুলোর নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্টারমার জানিয়েছেন, এ আইনটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সংসদে পাস করা হবে এবং ২০২৭ সালের বসন্ত থেকে কার্যকর হবে। তার ভাষায়, “আমরা বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। শিশুদের নিরাপদ রাখতে এবং তাদের শৈশব ফিরিয়ে দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, বরং ক্ষতিকর ফিচার যেমন লাইভস্ট্রিমিং ও অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও ব্লক করা হবে। এসব সীমাবদ্ধতা গেমিং সাইটসহ আরো বিস্তৃত অনলাইন সেবায় প্রযোজ্য হবে।
তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং অ্যাপগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত গেমিং শিল্পে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ গেমিং কোম্পানিগুলো মূলত সামাজিক মাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের কাছে নিজেদের প্রচার করে। টুইচ, ইউটিউব বা কিকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। এমনকি ডিসকর্ডের মতো জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যমও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
অনলাইন গেম যেমন রুনস্কেপ বা আর্ক রেইডার্স-এ খেলোয়াড়রা অপরিচিতদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। নতুন আইন কার্যকর হলে গেম ডেভেলপারদের হয়তো এসব যোগাযোগ বন্ধ করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া গত বছর একই ধরনের আইন চালু করেছিল, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তবে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশ শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
স্টারমার বলেছেন, “অভিভাবকরা চান তাদের সন্তানরা নিরাপদ ও সুখী থাকুক। কিন্তু অনলাইন দুনিয়া তা কঠিন করে তুলেছে। পরিবারগুলো পরিবর্তনের জন্য আকুতি জানিয়েছে, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব।”
রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই আইন কার্যকর হলে শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি কমবে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবন আরো সুরক্ষিত হবে।
logo-1-1740906910.png)