Logo
×

Follow Us

অন্যান্য

বন্ধ হচ্ছে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টে ভিসা আবেদনের পথ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৪০

বন্ধ হচ্ছে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টে ভিসা আবেদনের পথ

বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে ভুয়া নথি ব্যবহার করে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট কিংবা ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে ভিসা আবেদনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় একাধিক দেশ বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রদান স্থগিত বা বন্ধ করেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ভিসা আবেদনের জন্য ইস্যু করা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ বৈদেশিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে এবং প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। ওমান, বাহরাইন, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, মিসর, রোমানিয়া, ব্রুনাই ও মালদ্বীপে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে। মালয়েশিয়া প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশি কর্মী নিচ্ছে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ভিসা ইস্যু বন্ধ করেছে, আর কাতারও একই পথে হেঁটেছে।

এই সংকটের বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জাল নথিপত্রের ব্যবহার। আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভুয়া নথি দিয়ে ভিসা আবেদনের পথ বন্ধ না হলে তারা প্রক্রিয়া সহজ করবে না। মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রেও রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম ও জালিয়াতি বড় ভূমিকা রেখেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রতারণা এখন সংগঠিত রূপ নিয়েছে। দালাল চক্র ও অননুমোদিত ভিসা এজেন্সি ব্যাংক স্টেটমেন্টে তথ্য পরিবর্তন করে বা সম্পূর্ণ ভুয়া নথি তৈরি করে ভিসাপ্রত্যাশীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। একটি দূতাবাস একাই প্রায় ৩০০টি পর্যটন ভিসা আবেদনে একই ব্যাংকের জাল স্টেটমেন্ট শনাক্ত করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কিউআর কোড সংযুক্তির নির্দেশ সময়োচিত হলেও বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক সরকারি ও ক্ষুদ্র ব্যাংক এখনো মৌলিক ডিজিটাইজেশনের প্রক্রিয়ায় আটকে আছে। ৯০ দিনের মধ্যে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য কিউআর কোড চালু করা কঠিন হবে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, কারণ ডেটাবেজে প্রবেশাধিকার তৈরি হলে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু কিউআর কোড নয়, একটি কেন্দ্রীয় যাচাই-বাছাই সার্ভার তৈরি করা জরুরি, যেখানে সব ব্যাংক তাদের নথি একীভূত করবে। এতে বিনিয়োগ সাশ্রয়ী হবে এবং প্রতারণা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দালাল ও এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। দৃশ্যমান শাস্তি না হলে প্রযুক্তিগত সমাধান কেবল সাময়িক প্রভাব ফেলবে।

বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধার একদিনে সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ সেই পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। সঠিক বাস্তবায়ন ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।

Logo