বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনে আগ্রহী সবাই: বিক্রম মিশ্রি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৮:৪৮
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে স্থবির হয়ে পড়া বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে ভারত কাজ করছে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে এবং জনগণের স্বার্থই থাকবে মূল কেন্দ্রবিন্দু।
গত ৩ মে নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিক্রম মিশ্রি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ৪০টির বেশি প্রক্রিয়া রয়েছে। এগুলো ধীরে ধীরে সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, নবগঠিত সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা পুনরুদ্ধারে দুই পক্ষের মধ্যে সাধারণ বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে অতীতের নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত কোনো দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সমর্থন করেনি। ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, কোনো একক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো প্রকল্পগুলো সব নাগরিকের জন্যই, কোনো দলের জন্য নয়।
শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ইস্যু দিল্লি–ঢাকা সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—সম্পর্ক জনগণ ও রাষ্ট্রের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।
গঙ্গা ও তিস্তার পানিবণ্টন প্রসঙ্গে বিক্রম মিশ্রি জানান, বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমেই গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষে সমাধান হবে। তিস্তা চুক্তি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে আছে, তবে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ চাইলে ভারতের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি সম্ভব।
আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার্ক অতীতে স্থবির হয়ে পড়েছে সন্ত্রাসবাদের কারণে। তাই ভারত বিমসটেককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে, যা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
বাণিজ্য ও ঋণচুক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারতের দেওয়া ঋণ বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করবে। নতুন সরকার চাইলে নতুন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা হবে। ভিসা চালুর বিষয়েও ভারত কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিক্রম মিশ্রি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হবে জনগণের স্বার্থ ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা। দুই দেশ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে গেলেও প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ ও আস্থা পুনর্গঠনই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
logo-1-1740906910.png)