শরিফুল হাসানের কলাম
ব্রাসেলস ডায়েরি: এক দিনে চারটি বৈঠক, অসংখ্য ভাবনা!
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১
ঢাকায় যানজটের শহরে এক দিনে একটি-দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করাই যেখানে কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে আজ ব্রাসেলসে এক দিনেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করলাম।
সকাল ১০টায় প্রথম বৈঠক ছিল ইউরোপীয় কমিশনের ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপস (DG INTPA) মহাপরিচালকের দপ্তরে। এরপর মাইগ্রেশন ও হোম অ্যাফেয়ার্স (DG HOME), তারপর বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দিনের শেষ বৈঠক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মাইগ্রেশন পলিসি ডেভেলপমেন্ট (ICMPD)-এ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের সহ-অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা’ এবং ফ্রন্টেক্স উদ্যোগের আওতায় পরিচালিত পুনঃএকত্রীকরণ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছি।
বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া ও ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে অনিয়মিত অভিবাসন কেন এখনো উদ্বেগের বিষয়, কীভাবে নিরাপদ, নিয়মিত ও দক্ষ অভিবাসনের পথ আরও শক্তিশালী করা যায় এবং বিদেশফেরত মানুষের পুনঃএকত্রীকরণকে কীভাবে আরো কার্যকর করা যায়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তবে এই সফরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এসেছে বৈঠকের টেবিল থেকে নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে।
গত ৯ জুলাই রোম থেকে আমাদের এই যাত্রা শুরু। এরপর বার্সেলোনা, লিসবন, আজ ব্রাসেলস। সামনে সাইপ্রাস ও গ্রিস। প্রতিটি শহরে প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের গল্প শুনেছি; স্বপ্নের, সংগ্রামের, সাফল্যের, আবার অনেক অপ্রকাশিত কষ্টেরও।
প্রায় সবাই একটি কথাই বারবার বলেছেন, “আপনারা আমাদের কথা শুনছেন, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
এই একটি বাক্য বারবার আমাকে ছুঁয়ে গেছে। মনে হয়েছে, অনেক সময় মানুষ সমাধানের আগে একজন মনোযোগী শ্রোতাকেই খোঁজে।
আমরাও সেই শোনা অব্যাহত রাখতে চাই।
ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশি হিসেবে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা, পরামর্শ বা ভাবনা থাকলে ইনবক্সে বা হোয়াটসঅ্যাপে জানাতে পারেন। আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের কাজকে আরো সমৃদ্ধ করবে।
ভালো থাকুন সবাই।
ভালো থাকুক বাংলাদেশের মানুষ- দেশে ও প্রবাসে।
(শরিফুল হাসান ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান। বর্তমানে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে প্রবাসীদের সাথে দেখা করছেন, তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয় কথা বলছেন। তিনি এই বিরল অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত। মাইগ্রেশন কনসার্নকে তিনি এই লেখাগুলো পাঠকের জন্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন।)
logo-1-1740906910.png)