শরীফুল হাসানের কলাম
কেমন আছেন রোমের প্রবাসী বাংলাদেশিরা?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১০
ইউরোপের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় শহর রোম। ইতালিতে বর্তমানে তিন থেকে চার লাখের বেশি বাংলাদেশি বাস করেন, যার বেশির ভাগই রোম ও আশপাশে বসবাস করেন। তাদের অনেকেই ব্যবসা, সেবা খাত, পরিবহন ও বিভিন্ন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে গতকাল রাতে রোমে পৌঁছেছি। আজ সকালে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে মতবিনিময়ের পর আমরা যাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হামেদ মসজিদে।
উদ্দেশ্য ছিলো জুমার নামাজে আসা বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেখা করা ও কথা শোনা। আমাদের উদ্দেশ্য জেনে প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ অনুরোধ করলেন খুতবার আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে যেন বিস্তারিত জানাই। বিদেশে কেবল নয়, দেশেও কখনো জুমার নামাজে কথা বলার এমন অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। তারপরও চেষ্টা করলাম।
আমি আজ বলেছি, গত এক দশকে অনিয়মিত পথে, বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী অভিবাসীদের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে। কিন্তু এই অর্জন দেশকে বড় করে না। বরং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকেই নিখোঁজ হয়েছেন, আবার অনেকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।
আলাপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরি। জানাই, ইউরোপ ও লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের টেকসই পুনর্বাসনে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা সহায়তা, আর্থিক অনুদান, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংসহ নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরলাম। ইতালি থেকে ফেরত যে কোন মানুষের তথ্য পেলে আমরা তাদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলাম।
আলাপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ করেছি বাংলাদেশে থাকা পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মিত অভিবাসনের পরিবর্তে নিরাপদ, দক্ষতাভিত্তিক ও নিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ে সচেতন করতে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মীদের বৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণে ব্র্যাকও কাজ শুরু করেছে।
নামাজ শেষে আলোচনায় প্রবাসীরা তাদের নানা বাস্তব সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, বিভিন্ন নথিপত্রের জটিলতা, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া, নতুন প্রজন্মের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখা, শ্রম অধিকার, বৈধ কাগজপত্র, পরিবার থেকে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। আমরা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সেবাগুলো সম্পর্কেও তাদের জানাই।
আমরা আরো দু'দিন ইতালি আছি। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের বৈঠক আছে। এছাড়া আগামীকাল শনিবার ইতালির একটি কমিউনিটি হলে আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে মতবিনিময় করব। সেখানে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণ!
গতকালি লিখেছি ইউরোপ প্রবাসী ও ডায়াসপোরা বাংলাদেশিদের কথা শুনতে আমরা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের একটি প্রতিনিধি দল ইউরোপের বাংলাদেশি অধ্যুষিত কয়েকটি শহর সফর করব। আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে ইতালির রোম থেকে। মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সমন্বয়ক হারুন ভাই ও সিনিয়র ম্যানেজার রাকিব সফরে আমার সাথে আছেন।
আগামী কয়েকনদিন ইউরোপের বিভিন্ন শহরে প্রবাসী বাংলাদেশি, বাংলাদেশ দূতাবাস, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করব। যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান, অনুগ্রহ করে ইনবক্স বা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে পারেন। এই সফরে আমরা আপনাদের কথা শুনতে চাই। আপনাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও প্রত্যাশা আমাদের ভবিষ্যৎ কাজকে আরো সমৃদ্ধ করবে। সবাই ভালো থাকুন। ভালো থাকুক প্রবাসীরা! ভালো থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ!
(শরীফুল হাসান ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান। বর্তমানে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে প্রবাসীদের সাথে দেখা করছেন, তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয় কথা বলছেন। তিনি এই বিরল অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত। মাইগ্রেশন কনসার্নকে তিনি এই লেখাগুলো পাঠকের জন্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন।)
logo-1-1740906910.png)