Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশিকে নিয়ে অভিবাসন জালিয়াতি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬

কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশিকে নিয়ে অভিবাসন জালিয়াতি

কানাডায় বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রার্থীদের কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক বড় ধরনের ভিসা জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। মোট ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে অবৈধভাবে কানাডায় আনার লক্ষ্যে ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশে দাখিল করা এসব আবেদনে কানাডীয় নাগরিকদের ভুয়া আমন্ত্রণকারী বা আতিথ্যদাতা হিসেবে বানিয়ে জালিয়াতির এই আন্তর্জাতিক জাল বিছানো হয়েছিল।

গত ২২ অক্টোবর সিবিএসএ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের এই তথ্য প্রকাশ করে। অভিযুক্ত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম গত ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। মামলার পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে এবং তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কানাডার আদালত থেকে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সিবিএসএ জানিয়েছে, প্রাথমিক ২৪৩টি ভিসা আবেদনের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ সংবলিত ৭৯টি আবেদনকে মূল ভিত্তি ধরে আদালতে চার্জশিট ও প্রমাণের ফাইল পেশ করা হয়েছে।

সিবিএসএ-এর তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মারসিয়ে শহরের একটি বসতবাড়িতে স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বিভাগের যৌথ পরিদর্শনের সময় সন্দেহজনক চালচলন ও নথি জালিয়াতির প্রথম ইঙ্গিত পান সিবিএসএ কর্মকর্তারা। কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন (IRPA) লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে সিবিএসএ-এর বিশেষ অপরাধ তদন্ত বিভাগ মামলাটি খতিয়ে দেখা শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিও অঞ্চলের চারটি স্পর্শকাতর স্থানে একযোগে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করে তদন্তকারীরা। অভিযানে উদ্ধারকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কম্পিউটার সরঞ্জাম এবং শত শত ভুয়া কাগজপত্রের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে এই পাঁচ ব্যক্তির সাথে চক্রটির সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিকদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তার ষড়যন্ত্র, নথিতে মিথ্যা তথ্য দিতে উদ্বুদ্ধ করা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে প্রত্যক্ষ মদদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

কানাডা সরকারের মূল অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা খাতের ওপর জালিয়াতির এই চক্রটি বড় ধরনের আঘাত হেনেছে বলে মনে করছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। সিবিএসএ জানিয়েছে, অভিবাসন আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে গত ২০২৫ সালেই আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৯১টি পৃথক ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। আর চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন) আরও ৫৫টি নতুন ভিসা ও পারমিট জালিয়াতির ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কানাডা কর্তৃপক্ষ।

কানাডায় পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী, দর্শনার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের অনুমোদনহীন দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ভুয়া প্রলোভনে না পড়ার তাগিদ দিয়েছে স্থানীয় হাইকমিশন। জাল নথি বা অননুমোদিত আমন্ত্রণপত্র ব্যবহার করে ধরা পড়লে কেবল ভিসা প্রত্যাখ্যান নয়, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Inadmissibility) দেওয়া হতে পারে।

Logo