Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কৃত অভিবাসীদের নিতে রাজি বুরুন্ডি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৫

যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কৃত অভিবাসীদের নিতে রাজি বুরুন্ডি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অন্য দেশের অভিবাসীদের গ্রহণে সম্মত হয়েছে আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডি। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ‘তৃতীয় দেশ’ ভিত্তিক বহিষ্কার নীতিতে অংশ নেওয়া আফ্রিকান দেশের তালিকায় যুক্ত হলো দেশটি।

বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট এভ্যারিস্ট ন্দাইশিমিয়ের মুখপাত্র ন্যান্সি নিনেত মুতোনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো অভিবাসীদের গ্রহণ করা হবে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তাদের নেওয়া হবে না।

তবে কতজন অভিবাসীকে গ্রহণ করা হবে, কখন তাদের পাঠানো হবে কিংবা এ বিষয়ে কোনো আর্থিক সমঝোতা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ নীতির আওতায় ইতোমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসীদের পাঠানো হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, যেসব অভিবাসীকে এসব দেশে পাঠানো হচ্ছে, তাদের অনেকেরই ওই দেশগুলোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি কেউ কেউ আগে কখনো ওই দেশে যাননি। ফলে সেখানে পৌঁছানোর পর তারা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা এবং আটকের ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অনেক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালত থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। কিন্তু তৃতীয় দেশে পাঠানোর চুক্তিগুলো সেই সুরক্ষা কার্যত পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি করছে।

অন্যদিকে বুরুন্ডি বলছে, তারা অভিবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবাসন, জীবনযাত্রার পরিবেশ এবং স্থানীয় সমাজে অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ন্যান্সি নিনেত মুতোনি বলেন, অভিবাসীদের গ্রহণ করতে হলে কোথায় তারা থাকবেন, কীভাবে জীবনযাপন করবেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কীভাবে মিশে যাবেন, তা নিয়ে সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, কেউ যদি বুরুন্ডির সমাজে সম্পৃক্ত হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চান, তাহলে আইন অনুসারে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সম্ভাব্য নাগরিকত্বের ক্ষেত্রেও দেশের আইন মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বুরুন্ডি সরকারের মতে, এই উদ্যোগ একদিকে মানবিক সহায়তার অংশ, অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতেও সহায়ক হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে বুরুন্ডির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশের জন্য প্রস্তুত নয়।

Logo