এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি বাতিল চায় জেডি ভ্যান্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিকে “সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া” ব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, সুযোগ পেলে এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করার পক্ষেই থাকবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় ভ্যান্স অভিযোগ করেন, প্রযুক্তি খাত থেকে শুরু করে হিসাবরক্ষণসহ বিভিন্ন শিল্পে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দক্ষ জনবল আনার পরিবর্তে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এ কর্মসূচি ব্যবহার করছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভ্যান্স বলেন, বিশ্বের সেরা মেধাবীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার বিষয়টি এক জিনিস, আর শুধু শ্রম ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বছরে ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন মার্কিন হিসাবরক্ষকের পরিবর্তে ৪৫ হাজার ডলার বেতনে একজন বিদেশি কর্মী নিয়ে আসে, তাহলে তা মেধাবী কর্মী আনার উদ্যোগ নয়। বরং এটি আমেরিকানদের চাকরি ক্ষতিগ্রস্ত করার শামিল।
তার ভাষায়, “এটি আমেরিকান চাকরি ধ্বংস করা এবং মার্কিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার সমান।”
একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বিতর্কিত ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্তও সমর্থন করেছেন ভ্যান্স। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিদেশে অবস্থানরত কিছু কর্মীর জন্য করা এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে এ ফি কার্যকর করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নীতিটির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। বর্তমানে এটি ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
ভ্যান্সের মতে, এই উচ্চ ফি কোম্পানিগুলোকে শুধু সস্তা শ্রমের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ থেকে বিরত রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, যদি কোনো কোম্পানির লক্ষ্য শুধু কম বেতনের বিদেশি কর্মী এনে মার্কিন কর্মীদের প্রতিস্থাপন করা হয়, তাহলে তাদের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হবে।
হোয়াইট হাউসও দাবি করছে, এ নীতির উদ্দেশ্য হলো উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং অধিক বেতনভিত্তিক চাকরিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এইচ-১বি ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নির্বাহী নির্দেশনায় পররাষ্ট্র, শ্রম ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাঁটাইয়ের ইতিহাস পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আওতায় কোনো প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি একই ধরনের পদে মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করেছে কি না, কিংবা ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনা আছে কিনা, তা যাচাই করা হবে।
পাশাপাশি শ্রম বিভাগকে আগের শ্রম-সংক্রান্ত আবেদনগুলোও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা যায়।
প্রশাসন সম্প্রতি উচ্চ বেতনের চাকরিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন ধাপভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থাও চালু করেছে। তবে ভ্যান্সের মতে, এসব সংস্কারও মূল সমস্যার সমাধানের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমার দৃষ্টিতে এইচ-১বি কর্মসূচি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি বাতিল করার পক্ষপাতী। তবে যতদিন এটি থাকবে, ততদিন আমাদের প্রথম দায়িত্ব হবে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা।”
তবে এইচ-১বি আবেদনের ওপর আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। সর্বশেষ ১ অক্টোবর এক ফেডারেল বিচারক এ ফি আদায়ে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আদালতের মতে, প্রশাসন বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নীতিটি কার্যকর করেছিল। ফলে এই বিতর্কিত নীতির ভবিষ্যৎ এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করছে।
logo-1-1740906910.png)