Logo
×

Follow Us

এশিয়া

মার্কিন ভিসা বন্ডের আওতায় এশিয়ার যে ১২টি দেশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯

মার্কিন ভিসা বন্ডের আওতায় এশিয়ার যে ১২টি দেশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের পরীক্ষামূলক ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে চালু হওয়া এ কর্মসূচি এখন থেকে স্থায়ীভাবে কার্যকর হবে এবং বর্তমানে ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর প্রযোজ্য। এর মধ্যে ১২টি দেশ এশিয়ায় অবস্থিত, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, মঙ্গোলিয়া, কম্বোডিয়া, ফিজি, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, টোঙ্গা, টুভালু ও ভানুয়াতু।

এই কর্মসূচি শুধুমাত্র ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২) আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা ভিসা পেতে হলে ১০ হাজার, ১৫ হাজার বা ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় সিদ্ধান্ত নেবেন বন্ড প্রয়োজন কিনা। বন্ড না দিলে ভিসা আবেদন বাতিল হবে। বন্ড জমা দিলে আবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। ভিসা অনুমোদিত হলে মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে বন্ড ফেরত দেওয়া হবে।

ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক সময়ে বন্ড কর্মসূচি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ২০২৪ অর্থবছরে তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে মোট ৪৫ হাজারের বেশি ওভারস্টে রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে কর্মসূচি চালুর প্রথম ১০ মাসে ওভারস্টে সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫০-এর নিচে। একই সময়ে ভিসা ইস্যুর হারও নাটকীয়ভাবে কমে যায়, ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত। প্রায় অর্ধেক আবেদনকারী বন্ড দিতে রাজি হননি, ফলে তারা ভিসা পাননি।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালে ওভারস্টে হার ছিল ৫.৭৩ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২ হাজার ২০০ জনের বেশি। নেপালে ওভারস্টে সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার জন, তবে হার মাত্র ৩.১২ শতাংশ। অন্যদিকে তুর্কমেনিস্তানে ওভারস্টে হার ছিল ১৫.৮৯ শতাংশ, কিন্তু সংখ্যায় মাত্র ৩২০ জন। টুভালুতে ৪৩ জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র ৫ জন ওভারস্টে করায় হার দাঁড়ায় ১১.৬৩ শতাংশ। এসব তথ্য প্রমাণ করে, ছোট দেশগুলোর ক্ষেত্রে শতাংশের হিসাব বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বন্ডের অঙ্ক। সর্বনিম্ন ১০ হাজার ডলারও অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য প্রায় অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে গড় মাসিক আয় মাত্র ১৪৯ ডলার। তুর্কমেনিস্তানে গড় আয় ৭১৪ ডলার, টুভালুতে ৫৫১ ডলার। ফলে বন্ডের অঙ্ক অনেক প্রবাসীর নাগালের বাইরে।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পর্যটক সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪ মিলিয়ন কমেছে। এটি গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন, মহামারী বাদে। কঠোর অভিবাসন নীতি ও ভিসা বন্ডের মতো নতুন বাধ্যবাধকতা যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যটকদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তুলছে।

মার্কিন ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী হওয়ায় বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরো কঠিন হয়ে গেল। উচ্চ অঙ্কের বন্ড অনেকের নাগালের বাইরে থাকায় ভিসা আবেদন কমে যাবে, যা পর্যটন ও ব্যবসায়িক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Logo