কানাডার অটোয়ায় মানব পাচার সিন্ডিকেটের সন্ধান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০
কানাডার অটোয়ায় মানব পাচার মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর দেশটিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সংগঠিত যৌন শোষণ ও পাচার নেটওয়ার্ক। পুলিশ জানিয়েছে, অটোয়া থেকে শুরু করে টরন্টো, লন্ডন, উইন্ডসর ও সার্নিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে এরা যুক্ত ছিল। তদন্তে ছয়জন নারী ভুক্তভোগীর বক্তব্য পাওয়া গেছে, আরো ভুক্তভোগী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অটোয়া পুলিশ ৮ জুলাই মোয়াদ বেন ইয়াহিয়া (২৮), আবদুলআজিজ আল-জোয়াঘি (২৭) এবং মোহাম্মদ এলমুরাদি (২৬)-কে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও যৌন শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে কানাডার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ফিনট্র্যাকও যুক্ত হয়েছে।
পিল রিজিওনাল পুলিশ জানিয়েছে, ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জোরপূর্বক ও ভয় দেখিয়ে টরন্টো এলাকায় পাচার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় মোহাম্মদ ওমর আল-সালেহ, মুস্তাফা আবদো ও ইউসিফ আল-গবুরি অভিযুক্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকেও পাচার ও শোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
কানাডার পুলিশ সাধারণত অভিযুক্তদের ধর্ম বা জাতিগত পরিচয় প্রকাশ করে না। তবে কিছু বিশ্লেষক ব্রিটেনের ‘গ্রুমিং গ্যাং’ কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা টেনে সতর্ক করছেন। মুসলিম ভাষ্যকার রাহিল রাজা আগেই সতর্ক করেছিলেন, কানাডায় ব্যাপক অভিবাসন, পরিচয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কানাডায় মানব পাচারের ৫ হাজার ৭০টি ঘটনা পুলিশের কাছে রিপোর্ট হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ শতাংশ ভুক্তভোগী নারী ও কিশোরী, ২২ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। অভিযুক্তদের ৮২ শতাংশ পুরুষ। টরন্টো, অটোয়া ও লন্ডন শহরেই এক-তৃতীয়াংশ ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৬০ শতাংশ মামলা প্রমাণের অভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।
২০১৯ সালে কুইবেক থেকে অন্টারিওতে নারীদের পাচার করে যৌন শোষণের অভিযোগে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে আরেকটি মামলায় সাতজন অভিযুক্ত হয়, যাদের মধ্যে চারজনকে ২০২৬ সালের জুনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, কানাডায় মানব পাচার নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়।
logo-1-1740906910.png)