Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

ফুটবলই শরণার্থীদের ভাষা, একত্রে থাকার অবলম্বন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫

ফুটবলই শরণার্থীদের ভাষা, একত্রে থাকার অবলম্বন

আলোচনার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের মেইনের পোর্টল্যান্ড শহরের একটি ছোট্ট মাঠ- কেনেডি পার্ক। ফুটবল এখানে অভিবাসী ও শরণার্থীদের জীবনে বদলে দিয়েছে অনেক কিছু। কংক্রিটের এই মাঠে প্রতিদিনের অনানুষ্ঠানিক ম্যাচগুলো এখন হয়ে উঠেছে তাদের ঘরবাড়ি ও নিরাপত্তার প্রতীক।

কঙ্গো থেকে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আসা তরুণ জর্জ লুসোলো বলেন, “আমি ভাষা জানতাম না, কাউকে চিনতাম না। কিন্তু মাঠে এসে দেখলাম আমার মতো মানুষ খেলছে। ফুটবল আমার থেরাপি।” তার মতো অনেকেই ফুটবলের মাধ্যমে নতুন দেশে নিজেদের জায়গা খুঁজে পেয়েছেন। আরেক তরুণ দেজি কুরিবাঞ্জা বলেন, “এখানে ভাষা না জানলেও সমস্যা নেই। শুধু বল চাইতে ইশারা করলেই হয়।”

তবে এই সম্প্রদায়কে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি ও আইসিই (ICE) এর অভিযানে অনেক পরিবার আতঙ্কে ঘর থেকে বের হতে পারেনি। অন্তত ৪ লাখ মানুষকে ২০২৫ সাল থেকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। কেনেডি পার্কের খেলোয়াড়দের পরিবারও ভয় পেয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

কিন্তু ফুটবল সম্প্রদায় একসঙ্গে দাঁড়ায়। তারা ৭০টিরও বেশি পরিবারের কাছে খাবার পৌঁছে দেয় এবং আটক হওয়া ১৭ বছরের খেলোয়াড় জোয়েল আন্দ্রেকে মুক্ত করার জন্য প্রচারণা চালায়। চার মাস পর মুক্তি মিললেও তার মানসিক ক্ষত আজও রয়ে গেছে।

অভিবাসীরা মনে করেন, মাঠে তাদের খেলা দেখে স্থানীয়রা নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে। দেজি বলেন, “অনেকে অভিবাসীদের বোঝা মনে করে। কিন্তু যখন তারা দেখে আমরা হাসি, কথা বলি, খেলি; তখন তাদের ধারণা বদলায়।”

কেনেডি পার্কের এই ছোট্ট মাঠে গড়ে ওঠা সম্প্রদায় এখন বিশ্বকাপের স্বপ্নও দেখছে। জর্জ লুসোলো আশা করছেন একদিন কঙ্গোর হয়ে খেলবেন। আর দেজি বলছেন, “আমার ভেতরে আগুন জ্বলছে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়ানোর জন্য।”

ফুটবল এখানে শুধু খেলা নয়, বরং অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়, প্রতিরোধ ও নতুন জীবনের প্রতীক। বিশ্বকাপের আলো দূরে হলেও কেনেডি পার্কের মাঠে প্রতিদিন প্রমাণ হচ্ছে, ফুটবল একই ভাষায় সবাইকে এক করে দেয়।

Logo