ফুটবলের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস; ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৬
বাংলাদেশে ফুটবলের ইতিহাস শুধু খেলার গল্প নয়, বরং জাতীয় গৌরবের অংশ। বহু মানুষ হয়তো জানেন না, স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই পূর্ববঙ্গের মাঠে ফুটবলের জয়গান লেখা হয়েছিল। ১৯৩৭ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকার স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন মাঠে ইংল্যান্ডের শক্তিশালী দল ইসলিংটন করিন্থিয়ান্সকে হারিয়েছিল ঢাকার একাদশ। সেই ম্যাচে ভূপেন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, যাকে সবাই ‘পাখি সেন’ নামে চিনত, একমাত্র গোলটি করেছিলেন। করিন্থিয়ান্সের ভারত সফরে সেটিই ছিল তাদের একমাত্র হার।
এই জয় ছিল প্রতীকী। উপনিবেশিত বাংলার তরুণরা ব্রিটিশদের খেলায় তাদেরই হারিয়ে দিয়েছিল। ইতিহাসবিদরা বলেন, করিন্থিয়ান্সের অধিনায়ক তখন মন্তব্য করেছিলেন, “আমরা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের কথা শুনেছিলাম, আজ তাকে মাঠে দেখলাম।” যদিও কথাটি প্রমাণিত নয়, তবুও এটি হয়ে উঠেছিল এক কিংবদন্তি।
ঢাকার ওয়ারী ক্লাবও ফুটবলের ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম। ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাব একের পর এক বড় দলকে হারিয়ে আলোচনায় আসে। ১৯১৯ সালে তারা মোহনবাগানকে আইএফএ শিল্ড থেকে ছিটকে দিয়েছিল। ১৯২৫ সালে ইংল্যান্ডের শেরউড ফরেস্টার্সের বিরুদ্ধে গোল করা একমাত্র ভারতীয় দলও ছিল ওয়ারী।
ফুটবলের এই ঐতিহ্য শুধু খেলায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং জাতীয়তাবাদী আবেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। ১৯১১ সালে মোহনবাগান ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারালে পূর্ববঙ্গের খেলোয়াড়দের অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই জয় স্বদেশী আন্দোলনের আবহে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছিল।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। শরণার্থী শিবির থেকে খেলোয়াড় বেছে নিয়ে দলটি ভারতজুড়ে ১৬টি ম্যাচ খেলেছিল। তারা শুধু মাঠে লড়াই করেনি, বরং মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছিল। সেই দল প্রমাণ করেছিল, ফুটবলও হতে পারে স্বাধীনতার দূত।
স্বাধীনতার পর আবাহনী ও মোহামেডানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঢাকার ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে ঢাকা ডার্বি ছিল দেশের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ। বিদেশি কোচ, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা ফুটবলের মান বাড়িয়ে দিয়েছিল।
logo-1-1740906910.png)