জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা বাতিল করল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগে বড় ধাক্কা দিয়েছে। আদালত রায় দিয়েছে, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব বাতিল করা যাবে না। মঙ্গলবারের এই ৬-৩ ভোটে দেওয়া রায়কে দেশটির অভিবাসন নীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বে দেওয়া রায়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী স্পষ্টভাবে বলে, “যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে এবং এখানকার আইনের আওতায় রয়েছে, সে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।” রবার্টস লিখেছেন, “সংবিধানের ভাষায় ‘মা’, ‘বাবা’, ‘বৈধ’ বা ‘অস্থায়ী’ এই শব্দগুলো নেই, কারণ এগুলো mattered না।” তিনি ১৮৯৮ সালের Wong Kim Ark মামলার নজির টেনে বলেন, সেই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
রায়ের সঙ্গে একমত হয়েছেন বিচারপতি অ্যামি কনি ব্যারেট এবং তিনজন উদারপন্থি বিচারপতি- সোনিয়া সোটোমায়র, এলেনা কাগান ও কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন। তবে তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতি- স্যামুয়েল আলিটো, ক্লারেন্স থমাস ও নিল গরসাচ রায়ের বিরোধিতা করেছেন। আলিটো তার ৩০ পৃষ্ঠার ভিন্নমতে লিখেছেন, “এটি আদালতের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, এবং আমার মতে আদালত গুরুতর ভুল করেছে।”
বিচারপতি থমাস প্রায় ১০০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ মতামতে বলেন, এই রায় নাগরিকত্বের মূল্য কমিয়ে দিয়েছে এবং ১৪তম সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য বিকৃত করেছে। তার মতে, সংশোধনীটি মূলত দাসপ্রথা-পরবর্তী আফ্রিকান-আমেরিকানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত হয়েছিল। তবে বিচারপতি জ্যাকসন পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, থমাসের ব্যাখ্যা “কালারব্লাইন্ড সংবিধান”-এর ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসীদের পরস্পরের বিপরীতে দাঁড় করায়।
বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানাও আংশিক ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, নির্বাহী আদেশটি সংবিধান নয়, বরং ১৯৫২ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী বাতিল হওয়া উচিত ছিল। তার মতে, ভবিষ্যতে কংগ্রেস চাইলে নতুন আইন করে নাগরিকত্বের সীমা নির্ধারণ করতে পারে।
রায়ের পর ট্রাম্প বলেন, “কংগ্রেস চাইলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধের আইন পাস করতে পারে।” কিন্তু আদালতের রায় স্পষ্ট- যে শিশু যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছে, সে নাগরিক, তার বাবা-মা বৈধ বা অবৈধ যেভাবেই থাকুক না কেন। রবার্টস লিখেছেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছে এবং এখানকার আইনের আওতায় রয়েছে- এই দুই শর্ত পূরণ করলেই তারা জন্মসূত্রে নাগরিক।”
এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে আদালত তার বৈদেশিক বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করেছিল এবং ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা রক্ষায় রায় দিয়েছিল। তবে আদালত কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা বাড়ানোরও সুযোগ দিয়েছে, যেমন স্বাধীন সংস্থার প্রধানদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা।
logo-1-1740906910.png)