Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বসবাসের পথ বন্ধ করল কানাডার ম্যানিটোবা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৮

শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বসবাসের পথ বন্ধ করল কানাডার ম্যানিটোবা

কানাডার ষষ্ঠ বৃহত্তম প্রদেশ ম্যানিটোবা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের জনপ্রিয় পথ ক্যারিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পাথওয়ে (CEP) হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। ১১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এসেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানিটোবা প্রভিনশিয়াল নমিনি প্রোগ্রামের (MPNP) আওতায় চালু থাকা এই পথটি এতদিন শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে এখন থেকে শিক্ষার্থীদের অন্তত ছয় মাস কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এরপর তারা স্কিলড ওয়ার্কার ইন ম্যানিটোবা পাথওয়েতে আবেদন করতে পারবেন।

ম্যানিটোবা সরকার জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্পষ্ট ও একরূপ মানদণ্ড তৈরি করা। শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোই মূল উদ্দেশ্য। সরকারের মতে, যারা পড়াশোনা শেষে স্থানীয় শ্রমবাজারে অবদান রাখছেন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

যদিও CEP বন্ধ হয়ে গেছে, তবে গ্র্যাজুয়েট ইন্টার্নশিপ পাথওয়ে (GIP) চালু থাকবে। এটি মূলত মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা Mitacs ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন। এই পথের মাধ্যমে তারা এখনো স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যারা ইতোমধ্যেই এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (EOI) জমা দিয়েছেন, তাদের প্রোফাইল এখন নতুন নিয়মে স্কিলড ওয়ার্কার ইন ম্যানিটোবা পাথওয়েতে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতের ইওআই ড্রতে অংশ নিতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল সক্রিয় রাখতে হবে এবং ম্যানিটোবায় অর্জিত শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতা সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

এই সিদ্ধান্তে অনেক শিক্ষার্থী হতাশ হয়েছেন। বিশেষ করে যারা কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়াই দ্রুত স্থায়ী বসবাসের আশা করেছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় ধাক্কা। তবে যারা পড়াশোনা শেষে চাকরি পেয়েছেন, তাদের জন্য সুযোগ এখনো উন্মুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন ম্যানিটোবার শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি ধরে রাখার কৌশলের অংশ।

ম্যানিটোবার নতুন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ কিছুটা কঠিন করে তুলেছে। এখন থেকে পড়াশোনা শেষে স্থানীয় শ্রমবাজারে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনকারীরাই অগ্রাধিকার পাবেন। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়লেও দক্ষ জনশক্তি ধরে রাখতে প্রদেশটি আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।

Logo