মার্কিন আদালতে ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩২
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি বাতিল করেছে আদালত। সোমবার বোস্টনে দেওয়া এক রায়ে ফেডারেল বিচারক লিও সোরোকিন বলেন, এই ফি আসলে কর, যা কংগ্রেস অনুমোদন দেয়নি। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরনের ফি আরোপের কোনো ক্ষমতা নেই।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করেই এই ফি আরোপ করে। এর ফলে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। সাধারণত নিয়োগকর্তারা একজন বিদেশি কর্মীর জন্য ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফি দিতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ডলার। এতে ভিসা আবেদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি আবেদন এই ফি দিয়ে জমা পড়েছিল।
বিচারক সোরোকিন বলেন, “ফি যেভাবেই নামকরণ করা হোক না কেন, এর প্রকৃতি ও প্রয়োগে এটি কর।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের আগের এক রায়ের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ট্রাম্পের জরুরি আইন ব্যবহার করে আরোপিত শুল্ক বাতিল করা হয়েছিল। একই যুক্তিতে তিনি বলেন, অভিবাসন আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের কর আরোপের ক্ষমতা নেই।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্পষ্ট আইনি ক্ষমতা আছে বিদেশিদের প্রবেশ সীমিত করার এবং তিনি দেশের স্বার্থেই তা করেছেন।
এইচ-১বি ভিসা মূলত প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক খাতে দক্ষ কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়। প্রতি বছর ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়, পাশাপাশি উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার হাজারো তরুণ এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। নতুন ফি তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিল। আদালতের রায়কে তারা বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন। ভারতীয় তরুণদের মধ্যে বিশেষ করে ব্যাপক আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ তাদের অনেকের পরিকল্পনা এই ভিসার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন শুধু ফি বাড়ায়নি, বরং আবেদনকারীদের জন্য কঠোর ভেটিং প্রক্রিয়া চালু করেছে এবং উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই ফি নিয়ে অন্তত তিনটি মামলা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের। তারা এখনো আপিল প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন আদালতের এই রায় প্রবাসী কর্মীদের জন্য বড় সুখবর। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি বাতিল হওয়ায় দক্ষ কর্মীরা আবারো যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগের আশায় এগিয়ে যেতে পারবেন। তবে প্রশাসন আপিল করলে বিষয়টি আরো দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে। তবুও আপাতত এটি প্রবাসীদের জন্য স্বস্তির খবর।
logo-1-1740906910.png)