'এ বিশ্বকাপ আমাদের নয়, ওদের' যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে ক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১
দীর্ঘ ৪০ বছর পর ইরাক জাতীয় ফুটবল দল ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও দেশটির সমর্থকদের আনন্দ ভেস্তে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসানীতির কারণে। ইরাকি সমর্থক আব্দুল্লাহ আদনান নরওয়ে ও ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের টিকিট কিনেছিলেন, কিন্তু মার্কিন দূতাবাসের কনস্যুলার সেবা স্থগিত থাকায় ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ পাননি। প্রতিবেশী জর্ডানেও চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি বিশ্বকাপের আশা ছেড়ে দেন।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী দেশগুলোর এক-চতুর্থাংশেরও বেশি দেশের সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ ভিসা প্রত্যাখ্যান হারের মুখোমুখি হচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা হাইতি, ইরান, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
আইভরি কোস্টের সমর্থক প্রতিনিধি জুলিয়েন কুয়াদিও আদোনিস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইউরোপের কোনো দেশকে এমন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হয়নি, তাহলে আফ্রিকার ওপর কেন এই কোপ? ফুটবল হলো প্রদর্শনী, আর প্রদর্শনীর জন্য দর্শক অপরিহার্য।”
ধনী ৪২টি দেশের নাগরিকরা মাত্র ৪০ ডলার খরচ করে অনলাইনে ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছেন। অথচ আফ্রিকার কোনো দেশ এই তালিকায় নেই। সাধারণ দর্শকদের জন্য ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার, সঙ্গে কঠোর ইন্টারভিউ।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে ১১টি দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৪০ শতাংশের বেশি। তালিকায় রয়েছে ইকুয়েডর, মিসর, হাইতি, আলজেরিয়া, উজবেকিস্তান, কেপ ভার্দে, জর্ডান, ইরান, কঙ্গো, ঘানা ও সেনেগাল।
জর্ডানের ফ্যান অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান আবু কাস বলেন, “এই বিশ্বকাপ আমাদের মতো আরবদের জন্য নয়, এটা কেবল ওদের জন্য। ফ্যান অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানেরই যদি ভিসা না হয়, তবে সাধারণ সমর্থক কার হবে?”
ভিসা জটিলতা কমাতে ফিফা টিকিট ক্রেতাদের জন্য ‘ফিফা পাস’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে দ্রুত ইন্টারভিউর তারিখ পাওয়া যায়, তবে ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এমনকি ভিসা থাকলেও মার্কিন সীমান্তে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। অধিকাংশ বিদেশি সমর্থকের ভিসার প্রয়োজন নেই কারণ তারা কানাডা বা ভিসামুক্ত ৪২টি দেশের নাগরিক। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
যৌথ আয়োজক হলেও ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। কানাডা ও মেক্সিকোর ভিসানীতি তুলনামূলক সহজ হলেও কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক দেশের সমর্থক সেখানেও সমস্যায় পড়ছেন।
logo-1-1740906910.png)