Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশটির একটি আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি কঠোর অভিবাসন নীতি বাতিল করেছে। এর ফলে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের অভিবাসীরা রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড এবং বৈধ অভিবাসনের অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ফিরে পেলেন।

৫ জুন রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক জন ম্যাককনেল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) গৃহীত নীতিগুলো বাতিল করেন। তিনি বলেন, এসব নীতির কারণে অভিবাসীরা আইনি অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন। আবেদনকারীরা আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও ইউএসসিআইএস তাদের আবেদন মাসের পর মাস স্থগিত রেখেছিল। বিচারকের মতে, এটি আবেদনকারীদের কোনো ভুলের কারণে নয়, বরং তাদের জন্মস্থানের কারণে ঘটেছে।

এই রায়কে অভিবাসী সেবামূলক সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। তারা গত মার্চে ইউএসসিআইএসের নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। আদালতের রায় অনুযায়ী, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং ইউএসসিআইএস আইন অনুসরণ না করে প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘন করেছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করে। প্রসিকিউটররা দাবি করেছিলেন, হামলাটি একজন আফগান অভিবাসী চালিয়েছিল। এরপরই ইউএসসিআইএস নতুন নীতি গ্রহণ করে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রের সিস্টেম পুনরুদ্ধার হয়। একই সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৯ করা হয়।

পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, নিরাপত্তা যাচাই ও সুরক্ষার কারণে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু এর ফলে হাজারো মানুষের জীবন থমকে যায়।

বিচারক ম্যাককনেল বলেন, “অগণিত মানুষের জীবন থমকে গিয়েছিল শুধু তাদের জন্মস্থানের কারণে। কিন্তু আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।” তিনি আরো বলেন, ইউএসসিআইএস আইন অনুসরণ করেনি এবং সঠিকভাবে কাজও করেনি। বরং সংস্থাটি অভিবাসন আইন ও প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘন করেছে।

Logo