বিশ্বের রেইনবো ক্যাপিটাল: হাওয়াইয়ের রঙিন বিস্ময়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০৮
বিশ্বে এমন একটি জায়গা আছে যেখানে রংধনু দেখা দৈনন্দিন ব্যাপার। সেটি হলো হাওয়াই। এখানকার অনন্য ভূগোল, পরিষ্কার বাতাস এবং ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে আকাশে প্রায় প্রতিদিনই রংধনু দেখা যায়। তাই হাওয়াইকে বলা হয় রেইনবো ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড।
হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞানী স্টিভেন বুসিঙ্গার এই নামকরণ করেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট ছোট বৃষ্টির ফোঁটা ও উজ্জ্বল নীল আকাশের কারণে সূর্যের আলো সহজেই প্রতিফলিত হয়ে রংধনু তৈরি করে। প্রশান্ত মহাসাগরের বাতাস আর্দ্রতা নিয়ে আসে, যা মাউনা লোয়া, হালেয়াকালা ও ওয়াইআলিয়ালে পাহাড়ে উঠে মেঘ তৈরি করে। বৃষ্টির ফোঁটা তখন প্রিজমের মতো কাজ করে সূর্যের আলোকে বিভক্ত করে। রাতের উষ্ণ সমুদ্র বাতাসকে গরম করে, আর মেঘের শীর্ষ ঠান্ডা হয়ে সকালে গভীর বৃষ্টি ও রংধনু তৈরি করে।
হাওয়াইয়ের ট্রপিক্যাল আবহাওয়া, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষাকাল এবং স্থানীয় আবহাওয়ার বৈচিত্র্য, যেখানে এক জায়গায় বৃষ্টি হয় আর পাশের জায়গায় সূর্য ওঠে; সব মিলিয়ে রংধনু দেখার আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। পরিষ্কার বাতাসের কারণে এখানে রংধনু আরো উজ্জ্বল দেখা যায়, যা দূষিত শহরে সম্ভব নয়।
হাওয়াইয়ের মানুষের কাছে রংধনু শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অংশ। হাওয়াই ভাষায় রংধনুর জন্য রয়েছে নানা শব্দ—যেমন uakoko (মাটিতে লেগে থাকা রংধনু), kāhili (দাঁড়িয়ে থাকা রংধনু), punakea (অস্পষ্ট রংধনু) এবং ānuenue kau pō (চাঁদের আলোয় তৈরি রংধনু বা মুনবো)। স্থানীয় পুরাণে রংধনু রূপান্তরের প্রতীক এবং পৃথিবী ও আকাশের মধ্যে পথ হিসেবে বিবেচিত। দেবী আনুয়েনু মানুষের সঙ্গে দেবতাদের বার্তা আদান-প্রদানে রংধনুকে ব্যবহার করেন।
ভারতীয় ভ্রমণকারীদের কাছে হাওয়াইয়ের রংধনু বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হিন্দু পুরাণে রংধনু দেবতা ইন্দ্রের ধনুক হিসেবে পরিচিত। তাই হাওয়াইয়ের রংধনু তাদের কাছে আধ্যাত্মিক সংযোগের অনুভূতি জাগায়।
logo-1-1740906910.png)