যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়ছেন। ২০২৫ সালে আমেরিকানদের দেশত্যাগের প্রবণতা এতটাই বেড়েছিল যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে নেট আউটওয়ার্ড মাইগ্রেশন বা জনসংখ্যা হ্রাস দেখা গেছে। জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট বলছে, এমন পরিস্থিতি শেষবার হয়েছিল ১৯২৯ সালের মহামন্দার সময়।
আগে যারা দেশ ছাড়তেন তারা সাধারণত উচ্চশিক্ষিত ও অভিযাত্রী স্বভাবের ছিলেন। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষও যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাচ্ছেন। রিসেটেলমেন্ট কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান এক্সপাটসির প্রতিষ্ঠাতা জেন বারনেট বলেন, “আগে যারা যেতেন, তারা ছিলেন বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন। এখন তারা সাধারণ মানুষ, আমার মতো।” বারনেট নিজেও ২০২৪ সালে মেক্সিকোর ইউকাতানে চলে যান।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন নাগরিক স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যাচ্ছেন তা ট্র্যাক করে না। ফলে সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। তবে ব্রুকিংসের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নেট আউটওয়ার্ড মাইগ্রেশন ছিল ঋণাত্মক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। অন্যরা বলছেন, প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দেশ ছেড়েছেন।
২০০৯ সালের আগে প্রতি বছর ২০০ থেকে ৪০০ জন নাগরিকত্ব ত্যাগ করতেন। কিন্তু ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছেছে। ফি কমে যাওয়ায় ২০২৬ সালে আরো বেশি মানুষ নাগরিকত্ব ত্যাগ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রেই রেকর্ড সংখ্যক আমেরিকান বসবাস শুরু করেছেন। ইউরোপ ছাড়াও মেক্সিকো এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১৬ লাখ আমেরিকান বর্তমানে মেক্সিকোতে বসবাস করছেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমেরিকান প্রবাসী সম্প্রদায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক বিভাজন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ; সব মিলিয়ে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাচ্ছেন। ইউরোপ ও মেক্সিকোতে তুলনামূলকভাবে কম খরচে জীবনযাপন ও স্থিতিশীল পরিবেশ পাওয়া যায় বলে সেখানে আমেরিকানদের আগমন বাড়ছে।
logo-1-1740906910.png)