যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে মে দিবস উপলক্ষে হাজারো মানুষ শ্রমিক ও অভিবাসী অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ১ মে সিয়াটলসহ টাকোমা, ভ্যাঙ্কুভার, ইয়াকিমা ও টুকউইলা শহরে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা মিছিল, সমাবেশ ও ধর্মঘটের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
প্রতি বছরের মতো এবারো ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কাজের পরিবেশের দাবির পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার ও আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সংস্থা বিলুপ্তির আহ্বানে কেন্দ্রিত হয়। গত কয়েক বছরে আইসের গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবাদকারীরা এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সিয়াটলে দুপুরে ক্যাপিটল হিলের ক্যাল অ্যান্ডারসন পার্কে শত শত মানুষ জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড- “ইমিগ্র্যান্টস মেক আমেরিকা গ্রেট”, “স্টপ ওয়ার ইন ইরান” এবং “ইউনিয়নস: টেক দ্য লিড এগেইনস্ট আইস”। অনেকেই কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়ে “অ্যাফটারনুন অব সলিডারিটি” কর্মসূচিতে যোগ দেন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বয়কটের ডাক দেওয়া হয়, যাতে মানুষ সেদিন কোনো কেনাকাটা না করে প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, কমিউনিটি সংগঠক ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় বক্তব্য দেন। তারা ধনী কর্পোরেশন ও বিলিয়নিয়ারদের ওপর কর বাড়ানোর দাবি জানান, বহিষ্কার ও যুদ্ধের জন্য অর্থ ব্যয় বন্ধ করে তা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ব্যয় করার আহ্বান জানান।
ওয়াশিংটন স্টেট লেবার কাউন্সিলের সভাপতি এপ্রিল সিমস বলেন, “তারা আমাদের বিভক্ত করতে চায়, দুর্বল করতে চায়। কিন্তু আমরা একতাবদ্ধ, আমরা শক্তিশালী।” তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতা উল্লাসে সাড়া দেন।
একজন সাবেক আটক অভিবাসী ও এক ক্যাফে কর্মীও বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, অভিবাসীদের শোষণ করা হচ্ছে এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলো আইসের কার্যক্রম থেকে লাভবান হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা পার্ক থেকে মিছিল শুরু করে শহরের রাস্তায় নেমে পড়েন। তাদের হাতে ছিল ব্যানার— “ওয়ার্কার্স, মাইগ্র্যান্টস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টস ইউনাইট!”। ড্রাম বাজিয়ে তারা স্লোগান দেন এবং শহরের বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করেন।
লিনউডের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী এলিয়ানা পেসোলা ও তার স্বামী কেন শর্মা সেদিন সিয়াটলে আসেন। পেসোলা, যিনি ৪৫ বছর আগে পেরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, বলেন, “অভিবাসী শ্রমিকরাই দেশকে শক্তিশালী করে। তাদের সুযোগ না দিলে বড় কোম্পানি ও ধনী ব্যক্তিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
logo-1-1740906910.png)