Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী সমাজের ভবিষ্যৎ ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে কিনা- এই প্রশ্নে ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। বিষয়টি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া এক নির্বাহী আদেশকে কেন্দ্র করে। আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না যদি তাদের বাবা-মা অবৈধভাবে বা অস্থায়ী ভিসায় সেখানে অবস্থান করেন।  

১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, ১৮৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সবাইকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি ছিল। পরবর্তী সময়ে ১৮৯৮ সালের ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আর্ক মামলায় সুপ্রিম কোর্টও নিশ্চিত করে যে বিদেশি অভিভাবকের সন্তান হলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে সে নাগরিক হবে। ১৯৫২ সালের ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট একই নীতি পুনরায় আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।  

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ১৪তম সংশোধনীতে থাকা “subject to the jurisdiction thereof” বাক্যাংশ আসলে সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তি দেন, অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য নয়। আদেশটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের বিভিন্ন রায়ে তা স্থগিত হয়ে যায়।  

এই আদেশের বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাম্প বনাব বারবারা নামের মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে। মামলার বাদী বারবারা একজন হন্ডুরাস নাগরিক, যিনি আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেন। তার সঙ্গে আরো কয়েকজন অভিবাসী নারী এই মামলায় যুক্ত হয়েছেন। তারা দাবি করছেন, ট্রাম্পের আদেশ সরাসরি সংবিধানের ভাষার বিরোধী।  

আইনজীবীরা বলছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর স্থায়ী অংশ। এটি বাতিল হলে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার নবজাতক নাগরিকত্ব হারাবে। এতে বহু প্রজন্ম ধরে একটি স্থায়ী “অধিকারবঞ্চিত শ্রেণি” তৈরি হবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়েও নাগরিকত্ব পাবে না।  

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা যুক্তি দিচ্ছেন, ১৪তম সংশোধনী মূলত মুক্ত দাসদের জন্য প্রণীত হয়েছিল, অভিবাসীদের সন্তানদের জন্য নয়। তারা বলছেন, আদালতের পূর্ববর্তী রায়গুলো ভুল ব্যাখ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং নতুন করে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।  

এই মামলার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ট্রাম্পের আদেশ বহাল থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী সমাজের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসবে। 

Logo