Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

মানব পাচারে ‘গ্রুমিং’ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩

মানব পাচারে ‘গ্রুমিং’ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে যৌন পাচারের ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘গ্রুমিং’ বা ধাপে ধাপে প্রলোভন দেখিয়ে শিশু ও তরুণীদের ফাঁদে ফেলার প্রক্রিয়া। কেএফওআর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওকলাহোমা সিটিতে আয়োজিত এক স্টুডিও আলোচনায় মানব পাচারবিরোধী সংগঠন ‘ড্রাগনফ্লাই’-এর প্রতিনিধি মেলিসা আইক এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

গ্রুমিং বলতে বোঝায়, পাচারকারীরা প্রথমে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ কাজে জড়িয়ে ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে ভুক্তভোগীরা বুঝতেই পারে না তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

এই বিষয়টি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে জেফ্রি এপস্টিন কেলেঙ্কারির পর। এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় পাচার চক্র পরিচালনা করতেন, যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের গ্রুমিং করে যৌন পাচারে ব্যবহার করা হতো। সেই ঘটনার পর থেকেই গ্রুমিং নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ছে।

মেলিসা আইক বলেন, অনেক সময় ভুক্তভোগীরা নিজেরাই মনে করে তারা স্বেচ্ছায় সম্পর্ক তৈরি করছে। কিন্তু আসলে পাচারকারীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যবহার করে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন পাচারকারীদের অন্যতম বড় হাতিয়ার। অনলাইনে বন্ধুত্ব, চাকরির প্রলোভন বা মডেলিংয়ের সুযোগ দেখিয়ে তরুণীদের টার্গেট করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শিশু ও তরুণীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে, যাতে তারা বিপদ বুঝতে পারে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

মানব পাচারবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, গ্রুমিংয়ের মাধ্যমে পাচারকারীরা শুধু যৌন পাচার নয়, বরং শ্রম পাচারেও তরুণদের ব্যবহার করছে। অনেক সময় ভুক্তভোগীদের বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়, পরে তারা দাসত্বের মতো অবস্থায় আটকে যায়।

Logo