কানাডার গ্রামীণ এলাকায় শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন সুযোগ দিয়েছে দেশটির ফেডারেল সরকার। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক বছরের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রামীণ অঞ্চলের নিয়োগকর্তারা তাদের মোট কর্মীর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কম মজুরির অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশ। তবে এই সুবিধা শুধু সেই প্রদেশ ও অঞ্চলে প্রযোজ্য হবে, যারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সম্মত হবে।
২০২৪ সালের আগস্টে কানাডার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (ESDC) নিয়োগকর্তাদের TFWP-র ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ১০ শতাংশ সীমা নির্ধারণ করেছিল। এবার সেই সীমা বাড়িয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে সরকার।
স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ; এই তিনটি চাহিদাসম্পন্ন খাতে আগের মতোই ২০ শতাংশ পর্যন্ত কম মজুরির কর্মী নিয়োগের অনুমতি থাকবে।
তবে যেসব অঞ্চলে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশের বেশি, সেখানে কম মজুরির TFWP ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন গ্রহণে এখনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই তালিকা প্রতি তিন মাসে হালনাগাদ হয়।
TFWP কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি জনপ্রিয় পথ। এই কর্মসূচি ব্যবহার করতে চাইলে নিয়োগকর্তাদের ESDC-তে একটি Labour Market Impact Assessment (LMIA) জমা দিতে হয়, যাতে নির্ধারিত হয় বিদেশি কর্মী নিয়োগে দেশের শ্রমবাজারে ইতিবাচক, নিরপেক্ষ বা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা।
TFWP-র দুটি প্রধান ধারা রয়েছে- উচ্চ মজুরি ও নিম্ন মজুরি। কোনো পদের ঘণ্টাপ্রতি মজুরি সংশ্লিষ্ট প্রদেশ বা অঞ্চলের নির্ধারিত সীমার নিচে হলে সেটি নিম্ন মজুরি হিসেবে গণ্য হয়।
নিম্ন মজুরি ধারা ব্যবহার করে কর্মী নিয়োগে নিয়োগকর্তাদের জন্য অতিরিক্ত কিছু শর্ত থাকে। যেমন, কর্মীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়।
প্রদেশভিত্তিক নিম্ন মজুরি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন, অন্টারিও ও আলবার্টায় ৩৬ ডলার, ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় ৩৬.৬০ ডলার, কুইবেকে ৩৪.৬২ ডলার, সাসকাচুয়ানে ৩৩.৬০ ডলার, ইয়ুকনে ৪৪.৪০ ডলার, নুনাভুটে ৪২ ডলার এবং নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজে সর্বোচ্চ ৪৮ ডলার।
এই নতুন পদক্ষেপ কানাডার অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে অভিবাসন নীতিকে সমন্বয় করার একটি প্রয়াস। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া কঠিন, সেখানে বিদেশি কর্মীর নিয়োগ সহজতর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এই পরিবর্তনের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
logo-1-1740906910.png)