Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

গোপনে অভিবাসীদের আফ্রিকা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৬

গোপনে অভিবাসীদের আফ্রিকা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গোপন অভিযানের মাধ্যমে অভিবাসীদের আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে- এমন অভিযোগে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আটজন অভিবাসীকে ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দেতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতেও একইভাবে ৯ জনকে সেখানে নির্বাসিত করা হয়।  

চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই অভিবাসীদের কারোরই ক্যামেরুনের নাগরিকত্ব নেই, এমনকি দেশটির সঙ্গে কোনো পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কও নেই। তাদের মধ্যে কয়েকজনের ক্ষেত্রে মার্কিন আদালত আগেই নির্যাতনের আশঙ্কায় সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তবুও তাদের গোপনে নির্বাসিত করা হয়েছে।  

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসীদের গন্তব্য সম্পর্কে কোনো পূর্ব আভাস দেওয়া হয়নি। লুইসিয়ানা থেকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি বিমানে হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে তোলার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা জানতেন না কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্যামেরুন সরকারের কোনো প্রকাশ্য চুক্তির তথ্য নেই এবং ইয়াউন্দে কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে নীরব।  

ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসওয়াতিনি, নিরক্ষীয় গিনি ও রুয়ান্ডা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার গ্রহণ করে তৃতীয় দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে এসওয়াতিনি নিশ্চিত করেছে, অভিবাসীদের গ্রহণ করার বিনিময়ে তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ৫১ লাখ ডলার পেয়েছে। একইভাবে ঘানা, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।  

মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এসব গোপন চুক্তির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় চার কোটি ডলার ব্যয় করেছে। কংগ্রেস বা জনসমক্ষে কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই অত্যন্ত অস্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তিগুলো সম্পন্ন হয়েছে।  

এই পরিস্থিতিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন সতর্ক করে বলেছে, আফ্রিকাকে যেন নির্বাসিতদের ভাগাড়ে পরিণত না করা হয়। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার কর্মীরাও ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শরণার্থী সুরক্ষা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

Logo