যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ডিটেনশন সেন্টারের হৃদয়বিদারক চিঠি প্রকাশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডিলি ইমিগ্রেশন প্রসেসিং সেন্টার। এই কেন্দ্রেই আটক থাকা শিশুদের লেখা চিঠি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রোপাবলিকা সংগৃহীত এসব চিঠিতে উঠে এসেছে ভয়, দুঃখ আর অসহায়তার কথা। চিঠিগুলো ইতোমধ্যে কংগ্রেস সদস্য ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরে এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে পরিবারসহ অভিবাসীদের ব্যাপকভাবে আটক ও বহিষ্কারের নীতির কারণে ডিলি ডিটেনশন সেন্টার আবারো আলোচনায় এসেছে।
চিঠিতে শিশুরা জানিয়েছে, তারা স্কুলে যেতে পারছে না। খাবার তাদের ভালো লাগছে না। প্রতিদিন বিষণ্নতায় ভুগছে তারা। অনেকেই অভিযোগ করেছে, কেন্দ্রের কর্মীদের কাছ থেকে মৌখিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
সাত বছরের মিয়া লিখেছে, “আমি এখানে থাকতে চাই না। আমি আমার স্কুলে যেতে চাই। দাদা-দাদি আর বন্ধুদের খুব মিস করছি। এখানের খাবার ভালো না। আমি অসুস্থ বোধ করছি।”
বর্তমানে এই কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন অভিবাসীকে রাখা হয়েছে। যাদের অর্ধেকের বেশি শিশু। আইন অনুযায়ী, শিশুদের ২০ দিনের বেশি আটক রাখার কথা নয় কিন্তু বাস্তবে অনেক শিশুকে মাসের পর মাস সেখানে থাকতে হচ্ছে।
১৪ বছরের জর্জ লিখেছে, সে চার মাস ধরে ডিলিতে আটক। সেখানেই কুকি দিয়ে বানানো ছোট একটি কেক কেটে নিজের জন্মদিন উদযাপন করেছে সে। ৯ বছরের মারিয়া লিখেছে, ডিজনি ওয়ার্ল্ডে যাওয়ার পথে সে ও তার মা আটক হয়।“প্রতিদিন রাতে আমি কাঁদি। ভালোভাবে ঘুমাতে পারি না। মনে হয় সব আমার দোষ” লিখেছে মারিয়া। পরে তাকে ও তার মাকে কলম্বিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।
চিঠিগুলোতে আরো বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারে প্রায় সবাই অসুস্থ থাকে। ১২ বছরের এন্ডার লিখেছে“এখানে সবাই অসুস্থ। কর্মীরা শুধু বলে বেশি পানি খেতে। কিন্তু সেই পানিতেই আমরা অসুস্থ হই।”
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি সেখানে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা সেবাও খুবই সীমিত।
অন্যদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, আটক অভিবাসীদের সর্বোত্তম স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে শিশুদের চিঠি ও আইনজীবীদের অভিযোগে ভিন্ন বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে।
ডিলি ডিটেনশন সেন্টারের শিশুদের লেখা এই চিঠিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, পরিবারসহ শিশুদের এভাবে আটক রাখা অমানবিক। এতে শিশুদের মানসিক ও ভবিষ্যৎ জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
logo-1-1740906910.png)