কানাডায় যাওয়ার আগে সহজ প্রস্তুতির চেকলিস্ট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৬
বিদেশে নতুন জীবন শুরু করা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে কানাডার মতো দেশে প্রথমবারের মতো গেলে কিছু প্রস্তুতি নিলে যাত্রা অনেক সহজ হয়ে যায়। কাজের কাগজপত্র থেকে শুরু করে আর্থিক পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন; সবকিছু আগে থেকে ভেবে রাখলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
প্রথমেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে হবে। পাসপোর্ট, জন্মসনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং অভিবাসন কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। ভ্রমণের সময় এগুলো সব সময় হাতের কাছে রাখা ভালো, লাগেজে না রাখাই নিরাপদ।
কানাডায় কাজ করতে চাইলে নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সেখানে কতটা স্বীকৃত হবে, তা আগে থেকে জেনে নেওয়া জরুরি। কিছু পেশা নিয়ন্ত্রিত, যেখানে কাজ শুরু করার আগে মূল্যায়ন প্রয়োজন। এ বিষয়ে কানাডিয়ান ইনফরমেশন সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডেনশিয়ালস (CICIC) বিস্তারিত তথ্য দেয়।
চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা নিতে কানাডার সরকারি জব ব্যাংক ওয়েবসাইটে আগে থেকেই খোঁজ করা যেতে পারে। সেখানে চাকরির বিজ্ঞপ্তি, শ্রমবাজারের তথ্য এবং সিভি ও কাভার লেটার তৈরির পরামর্শ পাওয়া যায়।
কোথায় বসবাস করবেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে জীবনযাত্রা, আবহাওয়া ও চাকরির সুযোগ ভিন্ন। খরচ, পরিবহন ব্যবস্থা ও আবাসনের ধরন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা নিলে নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী জায়গা বেছে নেওয়া সহজ হয়।
ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি। ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় দক্ষতা থাকলে দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষেত্রে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। অনলাইন কোর্স, কমিউনিটি প্রোগ্রাম বা ভাষা মূল্যায়ন সেবা ব্যবহার করে ভ্রমণের আগে কিছুটা প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
কানাডার স্বাস্থ্যসেবা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হলেও নতুনদের জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। তাই প্রথম কয়েক মাসের জন্য অস্থায়ী প্রাইভেট স্বাস্থ্যবীমা নেওয়া ভালো।
আবহাওয়ার বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। কানাডায় চারটি ঋতু স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বসন্তে বৃষ্টি, গ্রীষ্মে উষ্ণ আবহাওয়া, শরতে ঠান্ডা হাওয়া ও রঙিন পাতা আর শীতে তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাত থাকে। বিশেষ করে শীতের জন্য উপযুক্ত পোশাক ও নিরাপদ ভ্রমণের প্রস্তুতি জরুরি।
প্রথম কয়েক মাসে খরচের চাপ বেশি থাকে। বাসা ভাড়া, পরিবহন, খাবার ও পোশাকের খরচ শহরভেদে ভিন্ন হয়। তাই বাজেট তৈরি করে রাখা দরকার। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা নিলে সুবিধা হয়।
সবশেষে, নতুনদের জন্য কানাডায় নানা সাপোর্ট সার্ভিস রয়েছে। প্রি-অ্যারাইভাল সেবা চাকরি প্রস্তুতি, ভাষা শেখা ও বসবাস পরিকল্পনায় সহায়তা করে। আর দেশে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সংগঠনগুলো আবাসন, শিক্ষা, চাকরি ও কমিউনিটি সেবায় সহযোগিতা করে।
কানাডায় নতুন জীবন শুরু করতে হলে আগে থেকেই পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। নথি সংগ্রহ, ভাষা শেখা, চাকরির বাজার বোঝা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনের পরিকল্পনা; সবকিছু মিলিয়ে সঠিক প্রস্তুতি নিলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া হবে অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক।
logo-1-1740906910.png)