সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার যে ‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। এ পরিকল্পনায় গাজাকে ঝকঝকে আকাশচুম্বী ভবন, পর্যটন কেন্দ্র ও ব্যবসায়িক এলাকা দিয়ে সাজানোর কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প ফিলিস্তিনি স্থাপত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সম্পূর্ণভাবে মুছে দিয়ে গাজাকে দুবাই বা কাতারের মতো একটি কৃত্রিম শহরে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা।
কুশনারের উপস্থাপনায় এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে দেখা যায়, গাজার দিগন্তজুড়ে কাঁচের অট্টালিকা এবং ঐতিহ্যবিহীন আধুনিক স্থাপত্য। ব্রিটিশ-ইসরায়েলি বিশ্লেষক ড্যানিয়েল লেভি বলেন, এই পরিকল্পনা আসলে যুদ্ধ ও গণহত্যার ওপর ভিত্তি করে মুনাফা লোটার উদাহরণ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধে ইতোমধ্যেই ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃত।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক আবেদ আবু শাহদাহ নাওমি ক্লাইনের 'দ্য শক ডকট্রিন' বইয়ের উদাহরণ টেনে বলেন, শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলো দুর্যোগকে পুঁজি করে বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজে। তার ভাষায়, “আমাদের কাছে মানুষের মৃত্যু ট্র্যাজেডি হতে পারে, কিন্তু তাদের কাছে এটি জমি ও অধিকার কেড়ে নেওয়ার বড় সুযোগ।”
অধ্যাপক আভি শ্লাইম এই প্রকল্পকে ‘অশ্লীল’ ও ‘ঔপনিবেশিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এখানে ফিলিস্তিনিদের মতামত বা অধিকারকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকরা আরো উল্লেখ করেছেন, কুশনার যখন এই পরিকল্পনা দিচ্ছেন, তখনই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউর সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, উভয় ঘটনাই ফিলিস্তিনিদের শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার একই ধারাবাহিকতা।
তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কুশনার জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে না। কিন্তু সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যানেল শেলিন মনে করিয়ে দিয়েছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া হামাস কখনোই অস্ত্র ছাড়বে না। তার মতে, সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো দখলদারিত্ব বা যুদ্ধ কখনোই সফল হয় না।
logo-1-1740906910.png)